গোপালগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় কোথাও আওয়ামী লীগের ব্যানারে সভা, সমাবেশ, মিছিল কিংবা কেক কাটার অনুষ্ঠানের খবর পাওয়া যায়নি।
জেলার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং সাধারণ মানুষ তাদের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে পালন করছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সক্রিয় দেখা গেছে। অনেকেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন স্লোগান, ছবি ও ব্যানার সংবলিত ফটোকার্ড পোস্ট করেছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা শহরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা গোপালগঞ্জে অবস্থান করলেও সকাল ৯টা পর্যন্ত তাদের সড়কে টহল দিতে দেখা যায়নি।
জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছে। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানা পুলিশ চারজন ও কাশিয়ানী থানা পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে।
সরকার গোপালগঞ্জসহ দেশের ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় যশোরের ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের সেনানিবাস থেকে সেনাবাহিনীর একটি দল গোপালগঞ্জে পৌঁছেছে। তবে কতজন সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা যাতে বিশৃঙ্খলা বা সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সেজন্য নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বলেন, ‘জেলার সার্বিক পরিবেশ এখনও শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে। কোথাও কর্মসূচি পালনের তথ্য নেই। তবে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।’
গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ বলেন, ‘জেলায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। আমরা চাই, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকুক।’ আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সেনাবাহিনী গোপালগঞ্জে অবস্থান করবে।