বাজেট বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন এবং নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। শনিবার গবেষণা সংস্থা পিপিআরসির আয়োজিত ওয়েবিনারে তারা এ বিষয়ে আলোচনা করেন।
বিশ্লেষকরা বলেন, দুর্নীতি, প্রকল্পের কাজে ধীরগতি এবং অপচয়ের কারণে বাজেট বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসময় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নিত্যপণ্যের শুল্কছাড় কার্যকর হচ্ছে কিনা, তা দেখাও জরুরি বলে মনে করেন তারা।
সরকার আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে, যা উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নিয়ে তৈরি। তবে বড় আকারের বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
পিপিআরসির ওয়েবিনারে বক্তারা বলেন, বাজেটে ব্যবসা বাণিজ্য সহজ করতে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু কীভাবে বিনিয়োগ আসবে তা নির্ধারণ করা হয়নি।
দেশে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে, যা মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলছে। তাই বাজেট বাস্তবায়নে আর্থিক স্থিতিশীলতা, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে জোর দেন আলোচকরা।
এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ মন্তব্য করেন, ‘এই ছাড় অব্যাহত থাকলে নিত্যপণ্যের দাম বর্তমান অবস্থায় থাকবে। তা না হলে দাম বেড়ে যাবে।’ তিনি এনবিআরের নীতি ব্যাখ্যা দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান জানান।
অ্যাকশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ অনেক কষ্ট সহ্য করে টিকে থাকতে পারে, কিন্তু উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের সহনশীলতা চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে গেছে।’
অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান বাজেট বাস্তবায়নের অগ্রগতি যাচাই করতে প্রতি তিন মাস পরপর পর্যবেক্ষণের তাগিদ দেন। তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও কার্যক্রমের দুর্বলতায় সম্পদের অপচয় হচ্ছে।’
আলোচকরা বলেন, করমুক্ত আয়করের সীমা বেড়েছে, পাশাপাশি করহারও বাড়ানো হয়েছে, ফলে আয়করদাতাদের সুবিধা কমছে।