সর্বজনীন পেনশন স্কিম, যা ২০২৩ সালে কার্যক্রম শুরু করে, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। মানুষের আস্থা অর্জন কঠিন হলেও, ধীরে ধীরে এই আস্থা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। তবে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর আস্থার সংকট তৈরি হয়। বর্তমান সরকার পূর্ববর্তী সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে চায় এবং আকর্ষণীয় স্কিম কাঠামো, শরিয়া ভার্সন, এবং নির্দিষ্ট সময়ে অর্থ প্রাপ্তির নিশ্চয়তার জন্য সংস্কার আনছে।
বর্তমানে, সর্বজনীন পেনশনের চারটি স্কিমে বিনিয়োগের পরিমাণ ২৬৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা, এবং এতে বিনিয়োগকারী সংখ্যা ৩ লাখ ৭৮ হাজার। প্রগতি স্কিমে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ হয়েছে, যার পরিমাণ ১২৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা। সমতা স্কিমে জমার পরিমাণ ৫৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, যেখানে ২ লাখ ৮৬ হাজার মানুষ যুক্ত হয়েছে।
সুরক্ষা স্কিমে ৬৪ হাজার ৯৮৯ জন যোগদান করেছেন, যেখানে জমার পরিমাণ ৭৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা। প্রবাস স্কিমে জমার পরিমাণ ১০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. সুরাতুজ্জামান জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে ৪ কোটি পরিবারের অন্তত একজনকে পেনশনের আওতায় আনা হবে।
বর্তমানে, পেনশন স্কিমে জমার তুলনায় বিনিয়োগ বেশি হয়েছে, যার ফলে ৩৯ কোটি টাকার বেশি মুনাফা হয়েছে। মুনাফা ও জমার হওয়া অর্থের ২৯৪ কোটি টাকা ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া, পেনশন স্কিমের অর্থ থেকে ঋণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, যার মাধ্যমে ৪ কোটি টাকার বেশি ঋণ ছাড় হয়েছে।
ড. সুরাতুজ্জামান জানান, পেনশন স্কিমের আইনের দুর্বলতাগুলো খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনে সংশোধনের কথাও বলা হয়। শরিয়া ভিত্তিক স্কিম চালুর ব্যাপারে কর্মকাণ্ড চলছে। তবে, আস্থা অর্জন এবং মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নতি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরি বলেন, স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এই স্কিম আকর্ষণীয় না হলে তারা আগ্রহী হবেন না।
বর্তমানে, ট্রেজারি বন্ড ছাড়া অন্য কোথাও অর্থ বিনিয়োগ করবে না সর্বজনীন পেনশন কর্তৃপক্ষ।