রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে আইআরজিসির অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়বে

নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে আইআরজিসির অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়তে পারে, বিশেষজ্ঞদের মতামত।

নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে আইআরজিসির অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়বে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের আলোচনা সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই আইআরজিসি ইরানের অর্থনীতির বিস্তৃত খাতে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। তাদের তেল ও গ্যাস, নির্মাণ, বন্দর ব্যবস্থাপনা, শিপিং, টেলিকমিউনিকেশন এবং অবকাঠামো খাতে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে।

টাইমস অব ইসরায়েলের সূত্রে জানা যায়, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কোনো সমঝোতার মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে, ইরানের অর্থনীতিতে নতুন বিনিয়োগ ও তেল রপ্তানি শুরু হতে পারে। তবে, এই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের বড় অংশ বিদ্যমান দেশীয় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে আইআরজিসির অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি কোম্পানিগুলো সাধারণত স্থানীয় অংশীদারের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করে, ফলে আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী বা গেটকিপারের ভূমিকায় চলে আসে।

আইআরজিসির প্রধান প্রকৌশল ও বাণিজ্যিক শাখা ‘খাতাম আল-আনবিয়া’ ইতোমধ্যে শত শত বড় অবকাঠামো ও জ্বালানি প্রকল্পে যুক্ত রয়েছে। তাদের কার্যক্রম টেলিকম, পরিবহন, পর্যটন এবং অটোমোবাইল খাতেও বিস্তৃত হয়েছে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন যে, নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে আইআরজিসির অর্থনৈতিক অবস্থান আরও সুসংহত হতে পারে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো আইআরজিসিকে একটি নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে রেখেছে।

এ কারণে, সম্ভাব্য সমঝোতার পরও আইআরজিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ব্যবসা করলে বিদেশি কোম্পানিগুলো আইনি ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি শুধু রাজনৈতিক সমাধান নয়, বরং ইরানের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে, যেখানে আইআরজিসির প্রভাব আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন