১৯৮৭ সালে আর্জেন্টিনার সান্টাফে প্রদেশের রোজারিওতে জন্মগ্রহণ করেন লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। তখন দেশটি তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের উন্মাদনায় ছিল। মেসিকে তার বড় দুই ভাই ডাকতেন 'লা পুলগিতা' নামে, যা পরে 'লা পুলগা' নামে পরিচিতি লাভ করে।
মেসির ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু হয় মাত্র ৫ বছর বয়সে স্থানীয় ক্লাব 'গ্রান্দোলি'-তে। তবে, ১১ বছর বয়সে তার শরীরে 'গ্রোথ হরমোন ডেফিসিয়েন্সি' (জিএইচডি) ধরা পড়ে, যা তার খর্বাকৃতি হওয়ার কারণ। এই চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ তার পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব ছিল না।
তাঁর পরিবারের পরিচিত একজন এজেন্ট বার্সেলোনার তৎকালীন ক্রীড়া পরিচালক কার্লোস রেক্সাচের সাথে যোগাযোগ করেন। ২০০০ সালের সেপ্টেম্বরে ১২ বছর বয়সে মেসি বার্সেলোনায় ট্রায়াল দেন। রেক্সাচ প্রথমবার মেসিকে দেখে বুঝতে পারেন যে, তিনি একজন ফুটবল জাদুকর।
মেসির সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করতে কিছুটা দ্বিধা ছিল, তবে রেক্সাচ ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর একটি টিস্যু পেপারের ওপর প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তিতে বার্সেলোনা মেসির চিকিৎসার খরচ বহন করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
চুক্তির পর মেসি ও তার পরিবার স্পেনে চলে আসেন এবং বার্সেলোনার 'লা মাসিয়া' একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন। ২০০৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে মেসির বার্সেলোনার মূল দলে অভিষেক ঘটে।
বার্সেলোনার হয়ে মেসি ১০টি লা লিগা, ৪টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং ৭টি কোপা দেল রে সহ মোট ৩৫টি ট্রফি জিতেছেন। তিনি রেকর্ড ৮ বার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন, যার মধ্যে ৭টি বার্সেলোনায় থাকার সময়।
জাতীয় দলের হয়ে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে ফাইনালে পৌঁছালেও জার্মানির কাছে হেরে যান। ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারানোর পর অবসরের ঘোষণা দেন, তবে পরে আবারও ফিরে আসেন।
২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয়ের মাধ্যমে ২৮ বছরের ট্রফি খরা ঘুচান। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে তার নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা শিরোপা জয় করে। এবারের বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে নতুন রেকর্ড গড়েছেন।