লিওনেল মেসির জন্মদিনে ফুটবল জগতের কিংবদন্তি হিসেবে তাঁর অসাধারণ যাত্রার কথা উঠে এসেছে। সম্প্রতি রোনালদো নাজারিও মেসির শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিয়ে বলেছেন, তিনি সর্বকালের সেরা ফুটবলার।
মেসির কাহিনী শুরু হয়েছিল আর্জেন্টিনার রোজারিওর সরু গলিতে, যেখানে তাঁর স্বপ্নগুলো ধুলো উড়িয়ে খেলত। শৈশবের এই ছোট্ট ছেলেটির শরীরের বৃদ্ধি হয়নি, ডাক্তাররা জানান এটি গ্রোথ হরমোন ডেফিসিয়েন্সি। চিকিৎসার জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন ছিল, কিন্তু স্বপ্নের পথে বাধা ছিল।
তবে, মেসির প্রতিভা আটকে রাখতে পারেনি। বার্সেলোনা দ্রুত তাঁকে খুঁজে বের করে এবং তাঁর সঙ্গে চুক্তি করে। কিন্তু লা মাসিয়াতে শুরুতে কঠিন সময় পার করতে হয় মেসিকে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মেসি নিজেকে প্রমাণ করেন। তিনি ফুটবল মাঠে গতি, ড্রিবলিং ও বলের সঙ্গে নিঃশব্দ নৃত্যের মাধ্যমে কবিতা রচনা করেন। তাঁর প্রতিভার ফলে তিনি একের পর এক রেকর্ড ভাঙেন এবং সাফল্যের পালকে মুকুট যোগ করেন।
তবে, মেসির গল্পটা শুধু সাফল্যের নয়; এটি ব্যথারও। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ও ২০১৫ ও ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকায় টানা তিন ফাইনাল হেরে তিনি হতাশ হন। সমর্থকদের সমালোচনা এবং নিজের মনেও সন্দেহ তৈরি হয়।
কিন্তু ২০২১ সালে স্কালোনির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকা জিতে। এটি মেসির জাতীয় দলের প্রথম শিরোপা এবং ২৮ বছর পর আর্জেন্টিনার জন্য একটি বড় সাফল্য। এরপর কাতারে বিশ্বকাপ জিতে তিনি সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
মেসির গল্প উচ্চতা দিয়ে নয়, বরং তাঁর নীরবতা, পরিশ্রম ও স্থিরতায় ফুটবল জয়ের কাহিনী। তাঁর নামেই সবচেয়ে বেশি প্রতিধ্বনি হয়েছে। শুভ জন্মদিন, লিওনেল মেসি!