অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচের শুরুতে পেনাল্টি পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসি পেনাল্টি শট নিলেও তা পোস্টের বাইরে চলে যায়। এই পেনাল্টি মিসের মাধ্যমে মেসি যেন প্রমাণ করলেন, তিনিও একজন সাধারণ মানুষ এবং ভুল করতে পারেন।
কিন্তু কিছুক্ষণ পরই মেসি আবার ভিনগ্রহের বাসিন্দার মতো খেললেন, জোড়া গোলে আর্জেন্টিনাকে জয় এনে দিলেন। আগের ম্যাচে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করার পর পরপর দুই ম্যাচে ৫ গোল করেছেন মেসি। বয়স ৩৯-এ পৌঁছালেও তার পারফরম্যান্সে কোনো ভাটা পড়েনি।
মেসির ক্যারিয়ারে যা কিছু অর্জন, তার প্রায় সবটাই তিনি করেছেন। ক্লাব ফুটবল থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে, ব্যক্তিগত ট্রফি থেকে দলীয় সাফল্য—সবকিছুতেই মেসির নাম। কিন্তু বয়স বাড়লেও তার গোল করার ক্ষুধা কমেনি।
বিশ্বকাপে মেসির পরিসংখ্যান ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। টানা ম্যাচে গোল করা, সর্বাধিক ম্যাচে দলের প্রথম গোল করা এবং সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ গোল করার রেকর্ড—সবই মেসির। ৩৫ বছর বয়সে পা দেওয়ার পর তিনি যত গোল করেছেন, অনেক কিংবদন্তি পুরো বিশ্বকাপ খেলেও তা করতে পারেননি।
ম্যাচ জেতাতে মেসির খুব বেশি সুযোগের প্রয়োজন হয় না। হাতে গোনা দুয়েকটি মুহূর্তই যথেষ্ট। প্রতিপক্ষ জানে, মেসির কৌশল কী হবে, কিন্তু মুহূর্তের ঝলকেই সব পরিকল্পনা ভেঙে দেন তিনি।
এ কারণে প্রশ্ন ওঠে, এটি কি শুধুই প্রতিভা, নাকি এর পেছনে অন্য কিছু রয়েছে? সুইডিশ সাবেক কিংবদন্তি জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ মন্তব্য করেছেন, মেসি যে অন্য গ্রহের, তা নিয়ে তার সন্দেহ নেই। পেনাল্টি মিস করলেই হয়তো মেসিকে মানুষ মনে হয়।