চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদকে হত্যার পর খুনিরা মাত্র ২ থেকে ৩ মিনিটের মধ্যে পালিয়ে যায়। পুলিশ ও স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের দ্রুত এবং নিখুঁত হত্যাকাণ্ড পেশাদার ও ভাড়াটিয়া খুনিদের পক্ষেই সম্ভব।
হত্যাকাণ্ডের সাথে দুর্ধর্ষ রায়হান বাহিনীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার, চট্টগ্রাম শহরের ব্যবসায়ী মজিবুর রহমানের বাড়ির সামনে মাসুদকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পাঁচজন খুনির মধ্যে তিনজন পিস্তল এবং দুইজন শর্টগান নিয়ে অংশগ্রহণ করে।
প্রথমে কোমর ও মাথায় গুলি করে মাসুদকে মাটিতে ফেলে দেয়। এরপর শর্টগান দিয়ে তার মাথায় পরপর দুই রাউন্ড গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। হত্যার পর আতঙ্ক ছড়াতে খুনিরা ১০-১২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এর ফলে মুহূর্তের মধ্যে জনাকীর্ণ পাহাড়তলি বাজার ফাঁকা হয়ে যায়।
স্থানীয়দের মতে, মাসুদকে পরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে পেশাদার খুনিদের দ্বারা হত্যা করা হয়েছে। তিনি ছিলেন এলাকার প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় নেতা। তার পরিবার থেকে অতীতে ইউপি নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
মাসুদের বড় ভাই শফিউল আলম স্বপন জানান, ‘আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইউপি চেয়ারম্যান পদে মাসুদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিল।’
রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘পাঁচ হত্যাকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।’ নিহত মাসুদের পরিবার শোকে স্তব্ধ। তার গ্রামের বাড়িতে স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত হয়েছেন।
মাসুদের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে গত ২২ মাসে রাউজানে ২৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, যার বেশিরভাগই দুর্ধর্ষ রায়হান বাহিনী দ্বারা সংঘটিত হয়েছে।