ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে পুশ-ইন ঘিরে ক্রমশ বাড়ছে উত্তেজনা। সম্প্রতি মৌলভীবাজার সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি নিহত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।
বিশ্লেষকরা জানান, সীমান্তে হত্যা ও পুশ ইন শুধু ভারতীয় আইন নয়, আন্তর্জাতিক আইনেরও পরিপন্থী। তারা বলেন, বিজিবি-বিএসএফ বৈঠকই নয়, রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার প্রয়োজন রয়েছে।
৮ থেকে ১১ জুন নয়াদিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের পর যৌথ বিবৃতিতে সীমান্ত হত্যা, নিরাপত্তা, সহিংসতা প্রতিরোধ, পুশ-ইন ও মাদক-চোরাচালানসহ বিভিন্ন বিষয় স্থান পায়।
সম্মেলনের একদিন পরেই মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ২০ বছরের মুজিব আলী নিহত হন। এদিকে, রোববার ভোরে চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিএসএফের ১৪ জনকে পুশইনের চেষ্টা আটকে দেয় বিজিবি।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি রাজ্য সরকার গঠন করার পর সীমান্তে উত্তেজনা বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে পুশ ইন বেড়েছে এবং সীমান্তে যে হত্যাগুলো ঘটছে, সেগুলোও আইন লঙ্ঘনের শামিল।"
নিরাপত্তা বিশ্লেষক এয়ার কমডোর (অব.) ইশফাক ইলাহী চৌধুরী বলেন, "আমাদের জনগণকে সতর্ক হতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও সচেতন থাকতে হবে। সীমান্ত সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে উদ্যোগ নিতে হবে।"
বিশ্লেষকরা সঙ্কট সমাধানে সরকারের পাশাপাশি জনসচেতনার গুরুত্বও তুলে ধরেছেন। তারা বলেন, সব শ্রেণি-পেশার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দুই দেশের সম্পর্ক উন্নতি হতে পারে।