গত কয়েক মাসে ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে একের পর এক ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। অনেকেই দাবি করছেন, এগুলো আসলে প্রাকৃতিক ভূমিকম্প নয়, বরং গোপনে পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর ফল।
ইরান ভূতাত্ত্বিকভাবে আরব এবং ইউরেশিয়ান প্লেটের সংঘর্ষের মধ্যে অবস্থিত, যার ফলে দেশটি ভূমিকম্পপ্রবণ। ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে এবং ইরানিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ৯০ শতাংশ অঞ্চল সক্রিয় ফল্ট লাইনের ওপর অবস্থিত।
বিজ্ঞানীরা জানান, প্রাকৃতিক ভূমিকম্প এবং পারমাণবিক বিস্ফোরণের তরঙ্গের মধ্যে পার্থক্য বোঝা যায়। সিসমোগ্রাফে প্রাকৃতিক ভূমিকম্পের জন্য ধীরে ধীরে ওঠা তরঙ্গ দেখা যায়, কিন্তু পারমাণবিক বিস্ফোরণ হলে তা দ্রুত ঘটে।
বিশ্বের কোথাও পারমাণবিক পরীক্ষা হলে তা গোপন রাখা সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক সংস্থা সিটিবিটিও এই ধরনের বিস্ফোরণ শনাক্ত করতে সক্ষম। সম্প্রতি ইরানের ভূমিকম্পের পর সিটিবিটিও এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, সেখানে কোনো কৃত্রিম বিস্ফোরণের আলামত পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞানীরা প্রাকৃতিক ভূমিকম্পকে নিশ্চিত করেছেন। তবে ভূ-রাজনীতির কারণে পারমাণবিক পরীক্ষার গুঞ্জন ছড়িয়েছে। ইরান এবং পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার ফলে এই সন্দেহ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
সুতরাং, ইরানের ভূমিকম্পগুলি প্রাকৃতিক কারণেই ঘটছে এবং এর সাথে পারমাণবিক পরীক্ষার কোনো সম্পর্ক নেই।