২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেটের মোট আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রায়’ আগামী অর্থবছরের জন্য এই বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ বা ৪ হাজার ৬৪১ কোটি টাকা বেশি। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে বেড়ে দাঁড়ায় ৮৪ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকায়।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রকৃত হিসাব অনুযায়ী, এ খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৬৯ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা। ফলে দুই বছরের ব্যবধানে সরকারি বেতন-ভাতা খাতে বার্ষিক ব্যয় প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নতুন বাজেটে কর্মকর্তাদের বেতনের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৩ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ছিল ১২ হাজার ৯২৭ কোটি টাকা। কর্মচারীদের বেতনের জন্য বরাদ্দ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা।
বরাদ্দের সবচেয়ে বড় অংশ ভাতাদি খাতে ব্যয় হবে। নতুন বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪৪ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ছিল ৪২ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা।
এদিকে, অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতির চাপ ও সরকারি চাকরিতে নতুন জনবল নিয়োগের কারণে প্রতি বছরই এ খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হচ্ছে। বাজেটের সামগ্রিক পরিচালন ব্যয় বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরকারের মোট প্রস্তাবিত আবর্তক ব্যয় ৫ লাখ ৫১ হাজার ৮৭ কোটি টাকা।