শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
ব্রেকিং
রাজনীতি

ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যে মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন আলোচনা

ট্রাম্পের মন্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যে মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, 'আমি মুদ্রাস্ফীতি ভালোবাসি', যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা বিবিসি জানিয়েছে, মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিএলএস) প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) এক বছর আগের তুলনায় ৪.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এপ্রিল মাসে এই হার ছিল ৩.৮ শতাংশ।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, 'সংখ্যাগুলো অসাধারণ ছিল। আমি মুদ্রাস্ফীতি ভালোবাসি।' তবে পরে তিনি দাবি করেন যে, তার মন্তব্য প্রসঙ্গের বাইরে উপস্থাপন করা হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে ইরান যুদ্ধের প্রভাব সত্ত্বেও মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার তুলনায় কম রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত শেষ হলে তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে এবং এর ফলে মূল্যস্ফীতিও নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। বিশ্ববাজারের প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এখনও যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি রয়েছে।

এছাড়া, ইরানের পদক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহও চাপে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে টানা তৃতীয় মাসের মতো মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, যা বিমান ভাড়া, চিকিৎসা ব্যয়, ব্যক্তিগত সেবা, বিনোদন ও যোগাযোগ খাতেও খরচ বৃদ্ধির প্রমাণ।

বর্তমান মূল্যস্ফীতি ২০২২ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে রেকর্ড ৯.১ শতাংশের চেয়ে অনেক কম। অর্থনৈতিক ইস্যুকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এটি রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে।

ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের প্রধান উত্তর আমেরিকা অর্থনীতিবিদ স্টিফেন ব্রাউন বলেন, 'মে মাসের তথ্য সুদের হার বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী সংকেত নয়।' অন্যদিকে, ওয়েলথ ক্লাবের বিনিয়োগ ব্যবস্থাপক আইজ্যাক স্টেল মনে করেন, সাম্প্রতিক কর্মসংস্থান তথ্য ও মূল্যস্ফীতির প্রবণতা বিবেচনায় সুদের হার বৃদ্ধি সবচেয়ে যৌক্তিক পদক্ষেপ হতে পারে।

ডেমোক্র্যাট নেতারা ট্রাম্পের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। সিনেটের ডেমোক্র্যাটিক নেতা চাক শুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, 'সাধারণ মানুষের প্রতি তার অবজ্ঞার কোনো সীমা নেই।'

বিজ্ঞাপন