শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
ব্রেকিং
অর্থনীতি

বাজেটে সরকারের ১০টি অগ্রাধিকার খাতের ঘোষণা

বাংলাদেশ সরকার বাজেটে ১০টি অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ করেছে।

বাজেটে সরকারের ১০টি অগ্রাধিকার খাতের ঘোষণা

বাংলাদেশ সরকার সবার অংশগ্রহণ ও অংশীদারত্ব নিশ্চিত করে বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তুলতে ১০টি অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ করেছে। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ বিষয়টি তুলে ধরেন।

অগ্রাধিকার খাতগুলোর মধ্যে উন্নয়নের সুফল সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে সুষম অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে বাস্তবমুখী, দক্ষতানির্ভর ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

সরকার মৌলিক অধিকার হিসেবে মানসম্মত ও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে জীবন চক্রভিত্তিক সুরক্ষা বলয় গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। শিশু থেকে প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থার আওতায় এনে কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি শক্তিশালী করা হবে।

পরিকল্পিত শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে। কৃষিকে জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তার কৌশলগত খাত হিসেবে শক্তিশালী করা হবে।

ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ সহজ করতে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সরকারি সেবায় বিলম্ব ও অপ্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া কমিয়ে স্বচ্ছ, সহজ ও সাশ্রয়ী ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর পাশাপাশি আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জ্বালানিনিরাপত্তাকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে সরকার বলেছে, উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান আইসিটি রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে প্রযুক্তিগত অন্তর্ভুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জনগণের অংশগ্রহণে বনায়ন কর্মসূচিকে সবুজ বিপ্লবে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারি বিনিয়োগ বাস্তবায়নের দক্ষতা বৃদ্ধিতে মেধাভিত্তিক, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন