শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হলেও, অধিকাংশ ভুক্তভোগীর ক্ষেত্রে এমন দ্রুত বিচার সম্ভব হয় না। আইন বিশেষজ্ঞরা জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমনে শক্ত আইন থাকলেও বিচারিক দীর্ঘসূত্রতায় অনেক পীড়িত ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত দেশে ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, এবং ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যার শিকার হয়েছে ১৭ শিশু। এই ঘটনার মধ্যে কয়েকটি মামলায় দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের তাগিদ সৃষ্টি হয়েছে, তবে অধিকাংশ মামলার বিচার এখনও বছরের পর বছর ধরে চলমান।
সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, “এ ধরনের ঘটনা ঘটলে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা দরকার। ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হলে বিচার দ্রুত হওয়া উচিত।”
কুমিল্লার শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার ১০ বছরেও সুরাহা হয়নি। ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের সুরক্ষিত এলাকায় তনুর মরদেহ উদ্ধার হয়। সম্প্রতি মামলার অন্যতম আসামি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে আটক করা হয়।
মানবাধিকার আইনজীবী এলিনা খান বলেন, “শিশুমামলার জন্য আলাদা আদালত হলে দ্রুত বিচার সম্ভব হবে, এতে জনগণের মধ্যে আস্থা বাড়বে।”
টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে জাকিয়া সুলতানা রুপা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড হলেও রায় কার্যকর হয়নি। চলতি বছরের মার্চে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ৭ বছরের শিশু জান্নাতুল নাইমা ইরার ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় বিচারিক প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি।
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার জারিয়া গ্রামে আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণের শিকার হয়। প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় অপরাধীর শাস্তি এখনও কার্যকর হয়নি।