শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
ব্রেকিং
অপরাধ

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আজ, ৭ জুন, ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।

বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন, সোহেল রানা শিশু রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করেছে, যা প্রমাণিত হয়েছে। আসামি সোহেল রানা জবানবন্দীতে রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেন। তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনও তাকে পালাতে সহযোগিতা করেছেন। আদালত আরও জানায়, আসামিদের অপরাধ সংশোধনযোগ্য নয় এবং তাদের যথাযথ শাস্তি না দিলে আদালত ব্যর্থ হবে।

রায়ের আগে, আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আসামিদের আদালতে আনা হয় এবং পরে তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ হয়।

এ মামলার বিচারকাজ দেশের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা, যেখানে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার চার দিনে শেষ হয়েছে। মামলায় ১৬ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হয়েছে এবং তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা করেন।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সোহেল রানার জন্য মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন করেন। গত ১৯ মে, পল্লবী এলাকায় প্রতিবেশী সোহেল রানার বাসা থেকে ৮ বছর বয়সী রামিসা আক্তারের শিরশ্ছেদ করা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরদিন রামিসার বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার সাত ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয় এবং ছয় দিনের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।

১ জুন থেকে শুরু হওয়া মামলার বিচার ২ জুন পর্যন্ত চলেছে, যেখানে রামিসার পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ কর্মকর্তা, চিকিৎসক, তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ১৬ জন সাক্ষ্য দেন।

বিজ্ঞাপন