রাজধানী ঢাকা, যেখানে জীবন কাটানোর জন্য মানুষ শ্রম ও ঘাম ঢালে, মৃত্যুর পর সেখানে কবরের জন্য জায়গা পাওয়া হয়ে উঠছে এক কঠিন চ্যালেঞ্জ।
বড় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে আসা অসংখ্য রোগীর মধ্যে অনেকেই আর বাড়ি ফিরতে পারেন না। মৃত্যুর পর প্রিয়জনের দাফনের জন্য স্বজনদের নতুন এক সংগ্রামে নামতে হয়। কবরস্থান অফিসে যোগাযোগ, নিবন্ধন এবং ফি পরিশোধের নানা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।
ঢাকা শহরের আয়তন ও জনসংখ্যা বেড়ালেও, কবরস্থানের সংখ্যা বা পরিধি বাড়েনি। ফলে, দীর্ঘদিন রাজধানীতে বসবাস করলেও মৃত্যুর পর অনেকের শেষ আশ্রয় হয়ে যায় গ্রাম।
নগরবাসীদের অনেকের কাছে গ্রামে দাফনের সুযোগ তুলনামূলক সহজ। কারণ সেখানে পারিবারিক জমি এবং পূর্বপুরুষদের কবর থাকে। কিন্তু ঢাকায় অধিকাংশ মানুষের নিজেদের জমি না থাকায় স্থায়ী কবরের নিশ্চয়তা পাওয়া কঠিন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বনানী কবরস্থানে ২৫ বছরের জন্য কবর সংরক্ষণের খরচ সর্বোচ্চ সাড়ে ৪ কোটি টাকা হতে পারে। অন্য এলাকায়ও খরচ কোটি টাকার ঘরে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১০ থেকে ২০ বছরের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা।
ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম জানান, খিলগাঁও কবরস্থান সম্প্রসারণের জন্য সরকারি জমি চাওয়া হয়েছে। জমি পাওয়া গেলে নতুন করে স্থান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কবরস্থান কর্তৃপক্ষ জানায়, নতুন কবর সংরক্ষণের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। কারণ, সকলের স্থায়ী কবর সংরক্ষণের ইচ্ছা থাকলে সাধারণ মানুষের দাফনের জন্য জায়গা সংকট আরও তীব্র হবে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, পরিকল্পিত নগরে জনসংখ্যার অনুপাতে কবরস্থানের জায়গা রাখার কথা থাকলেও, ঢাকায় সেই প্রস্তুতি নেই। নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, সরকারের উচিত মূল্যবান জমি কিনে মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা।
রাজধানীতে বহু মানুষ সারাজীবন ভাড়া বাসায় কাটান। মৃত্যুর পরও তাদের নিজের নামে কোনো স্থায়ী জায়গা থাকে না। ফলে, ঢাকায় মৃত্যু শুধু প্রিয়জন হারানোর বেদনা নয়, বরং শেষ আশ্রয়ের জন্যও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার নাম।