বুধবার, ০৬ মে, ২০২৬
ব্রেকিং
অর্থনীতি

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ: বিদ্যুৎ সংকট ও উন্নয়ন প্রস্তুতি

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ সংকট ও উন্নয়ন প্রস্তুতির মুখোমুখি, স্বল্পোন্নত দেশ তালিকা থেকে উত্তরণের সম্ভাবনা।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ: বিদ্যুৎ সংকট ও উন্নয়ন প্রস্তুতি

বৈশাখের তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে সরকার হিমশিম খাচ্ছে। জ্বালানি ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের গতিশীলতা ব্যাহত হওয়ায় গ্রামীণ জনপদসহ শহর অঞ্চল ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হচ্ছে।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মূলত আমদানিকৃত গ্যাস, কয়লা ও ফার্নেস অয়েলের ওপর নির্ভরশীল, যেগুলোর সরবরাহ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হ্রাস পেয়েছে। তবে মার্চ মাসের শেষে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উদ্বোধন দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন আশা জাগিয়েছে।

বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক শক্তি যুগে প্রবেশ করেছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে, যা জাতীয় চাহিদার প্রায় ১০-১২ শতাংশ মেটাতে সক্ষম হবে।

যদিও প্ল্যান্টটি পরিচালনার দিক থেকে কার্বনমুক্ত, তবে পদ্মা নদীতে জল নিষ্কাশনের তাপীয় প্রভাব এবং দূষণ জলজ জীবন ও মাছের সংখ্যার ওপর প্রভাব ফেলবে বলে পরিবেশবাদীদের আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর স্বল্পোন্নত দেশ তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবে বর্তমান সরকার আরও সময় প্রয়োজন উল্লেখ করে ইউএনসিডিপি’র চেয়ারম্যানকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে।

ইউএনসিডিপি ২৯ এপ্রিল বাংলাদেশের অনুরোধের ওপর একটি গণশুনানির আহ্বান জানিয়েছে। শুনানির পর, কমিটি জুন মাসে জাতিসংঘ অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদে তাদের সুপারিশ জমা দেবে।

দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে একটি ব্যাপক ঐকমত্য রয়েছে, ‘উত্তরণ অনিবার্য’। বাংলাদেশ বর্তমানে উত্তরণের জন্য নির্ধারিত ১৬টি স্বল্পোন্নত দেশের মধ্যে সবকটি মানদণ্ডে যোগ্যতা অর্জন করেছে।

যদি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের তিন বছরের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন গৃহীত না হয়, তবে উত্তরণের পর দেশের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।

এটি স্পষ্ট যে, উত্তরণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থনৈতিক বা সামাজিক সুবিধা বয়ে আনবে না। নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হলে বাংলাদেশ নতুন ঝুঁকির মুখে পড়বে।

বিজ্ঞাপন