সিলেট নগরীতে মর্মান্তিকভাবে এক পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিশুটির নাম আনিস, বয়স আনুমানিক ১১–১২ বছর। তিনি সিলেট স্কলার্স হোমের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরিবারের দাবি, গোসল করতে গিয়ে ওয়াশরুমে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে সেখানেই তার মৃত্যু ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্ট্রোকজনিত কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে।
নিহত শিশু রোজাদার অবস্থায় কোচিং থেকে বাসায় ফিরে গোসল করতে ওয়াশরুমে যায়। কিছুক্ষণ পর সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই অকাল মৃত্যু পরিবারে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।
আনিস ছিল দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে বড়। তার মাত্র ১৬ মাস বয়সী এক ছোট ভাই রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি হৃদয়বিদারক ছবিতে দেখা যায়, ছোট ভাইটি নিথর দেহে হাত রেখে বড় ভাইকে শেষ বিদায় জানাচ্ছে। এই দৃশ্যটি সকলের হৃদয়কে স্পর্শ করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
নিহত শিশুটির বাড়ি সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার গঙ্গাজল সিরাজপাড়া গ্রামে। তবে তিনি মা-বাবার সঙ্গে সিলেট শহরেই বসবাস করতেন। এই ঘটনায় পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিশুটির বন্ধু ও সহপাঠীরা তার অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে জানায়, "আমরা আনিসকে কখনোই ভুলব না। সে ছিল আমাদের সকলের প্রিয়।"
স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজকর্মীরা এই ঘটনার পর হতাশা প্রকাশ করে বলেন, "শিশুর অকাল মৃত্যু আমাদের সকলকে মর্মাহত করেছে। আমাদের সমাজে এই ধরনের ঘটনা ঘটার পর আমাদের সচেতন হতে হবে।"
শিশুটির অকাল মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে, যেন তিনি শিশুটিকে জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করেন এবং শোকাহত পরিবারকে ধৈর্য ধারণের তাওফিক দান করেন।
এ ধরনের ঘটনা সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।