রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন মুফতি আব্দুল মমিন। ঈদের ছুটি শেষে স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে কর্মস্থলে ফিরছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কালাকচুয়া এলাকায় বাস ও প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান তিনি এবং তার পরিবার।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মুফতি আব্দুল মমিন (৫০), তার স্ত্রী ঝর্না বেগম (৪০), ছেলে সাইফ (৭), মেয়ে লাবিবা (১৮) এবং প্রাইভেটকার চালক জামাল হোসেন (৫২)। দুর্ঘটনায় মুফতি মমিনের অপর ছেলে আবরার (১২) গুরুতর আহত হয়ে কুমিল্লার ময়নামতি আর্মি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত মুফতি মমিনের চাচাতো ভাই ওহিদ উল্যাহ জানান, পরিবার নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি মোহাম্মদপুরে একটি মাদরাসা পরিচালনা করতেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইসমাইল বলেন, এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনায় পরিবার ও এলাকাবাসী শোকে স্তব্ধ। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন মমিন, কিন্তু কর্মস্থলে ফেরা হলো না।
ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান বলেন, এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। একই পরিবারের এতগুলো প্রাণ একসঙ্গে ঝরে যাওয়া আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। পুরো ইউনিয়নজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মমিন জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়া এলাকায় স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস প্রাইভেটকারটিকে ধাক্কা দিলে সেটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই প্রাইভেটকারের চালক নিহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও চারজনের মৃত্যু হয়।