সোমবার, ০৯ নভেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
রাজনীতি

বিএনপির দু’পক্ষের বিরোধে ককটেল বিস্ফোরণ, আতঙ্ক ছড়ায় দাগনভূঞায়

দাগনভূঞায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

বিএনপির দু’পক্ষের বিরোধে ককটেল বিস্ফোরণ, আতঙ্ক ছড়ায় দাগনভূঞায়

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ফেনীর দাগনভূঞায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় শহরের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যানজট সৃষ্টি হয়।

দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমান দাবি করেন, ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ নয়, বরং কালিপূজার বাজির শব্দ শোনা গেছে। রবিবার বিকেলে সরকারি ইকবাল মেমোরিয়াল কলেজের সামনে থেকে বিএনপির র‍্যালি বের হয়, যার নেতৃত্ব দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন।

র‍্যালিটি যখন স্থানীয় সরকারি আতাতুর্ক আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের ফটকে পৌঁছায়, তখন নিউ সুলতান মার্কেট ও জিরো পয়েন্ট এলাকায় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এই বিস্ফোরণের ফলে সড়কে যানবাহন থমকে যায় এবং আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন।

বিস্ফোরণের ধোঁয়ায় চারপাশ আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে পথচারীদের মধ্যে ছোটাছুটি দেখা যায়। র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জিরো পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে আকবর হোসেন বলেন, ‘বিএনপি একটি বড় দল। মতের অমিল থাকতে পারে, তবে যারা সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চাঁদাবাজি করছে, তাদের সঙ্গে কোনো ঐক্য নয়।’

র‍্যালির পর বিএনপির নেতাকর্মীরা কলেজ রোডের দিকে যাওয়ার সময় আবারও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন, র‍্যালির আগে ও পরে অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে।

এছাড়া, প্রায় দুই শতাধিক ব্যক্তি বিশেষ পোশাক, হেলমেট ও মাস্ক পরে র‍্যালিতে অংশ নেন। তাদের বহন করা ব্যাগে সন্দেহজনক কিছু ছিল বলেও জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

দাগনভূঞা পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম স্বপন অভিযোগ করেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্ট, দালাল ও চাটুকারদের নিয়ে দাগনভূঞা বিএনপি চলতে পারে না।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি ফয়জুল আজিম নোমান বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে বিএনপির কর্মসূচি শেষ হয়েছে। ককটেল বিস্ফোরণ কারা ঘটিয়েছে, তা জানা নেই।’

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় অন্তত ৪৫ জন আহত হন।

বিজ্ঞাপন