লক্ষ্মীপুরে খোরশেদ আলম নামে এক মাটি ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের দিলসাদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত খোরশেদ আলম রুহুল আমিনের ছেলে।
পুলিশ জানায়, খোরশেদের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। নিহতের স্ত্রী আকলিমা আক্তার দাবি করেন, খোরশেদ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং রাজনৈতিক কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাকে একাধিক মামলায় কারাভোগ করতে হয়েছে।
নিহতের স্বজনরা জানান, খোরশেদ ৫ আগস্টের পর জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় মাটির ব্যবসা শুরু করেন। এ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে তার মোরশেদ আলম ও মজিদ হোসেনের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জের ধরে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়।
নিহতের স্ত্রী অভিযোগ করেছেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা সালাউদ্দিনও এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পার্বতীনগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জহিরুল আলম বলেন, খোরশেদ যুবদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. জহিরুল ইসলাম রনি জানান, খোরশেদকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয় এবং তার বুকে তিনটি গুলির চিহ্ন দেখা গেছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, খোরশেদ আলমকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, নিহত খোরশেদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান ছিলেন।