আগামী বছরের জন্য বিনামূল্যের পাঠ্যবইয়ে রাজনৈতিক দলের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা-নৌকার ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে ষষ্ঠ শ্রেণির 'তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি' বইয়ে দাঁড়িপাল্লার ছবি থাকা নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় শুরুতে তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং এনসিটিবির এক কর্মকর্তাকে বদলি করে। পরে আরও ৯ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। এতে মোট ১৭ কোটি টাকা খরচ করে দাঁড়িপাল্লার ছবি থাকা বইগুলো পুনরায় ছাপা হচ্ছে।
বইটি প্রথম পড়ানো শুরু হয় ২০২৫ শিক্ষা বর্ষে, যেখানে উপাত্ত ও তথ্যের ধারণা দিতে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার করা হয়। চলতি ২০২৬ শিক্ষা বর্ষে, ইংরেজি উইজডমের বাংলা লেখা হয় 'বুদ্ধি' এবং আইকন হিসেবে মানুষের অবয়বের ভেতরে পরমাণু মডেল দেয়া হয়।
২০২৭ সালের বইয়ে আবার দাঁড়িপাল্লার ছবি যুক্ত করা হয়েছে, যা নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত। এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ফখরুল মাওলা জানান, কোনো ছবি পরিবর্তনের নির্দেশ দেয়া হয়নি।
অন্যদিকে, আব্দুল্লাহ আল জোবায়ের বলেন, দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার একাডেমিকভাবে ভুল নয় এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি মাথায় কাজ করেনি। বইটি সংশোধন পরিমার্জনের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
এছাড়া, পাঠ্যবইয়ে নৌকার অন্তত ৮০টি ছবি রয়েছে। আসছে বছর নতুন বইয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছবি নিয়েও আলোচনা চলছে। নেটিজেনরা বলছেন, পাঠ্যবইকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানো উচিত নয়।