মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
ব্রেকিং
রাজনীতি

রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক পরিবর্তন: 'পাপ্পু' থেকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী

রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক পরিবর্তন ও কংগ্রেসের পুনরুত্থান নিয়ে বিশ্লেষণ।

রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক পরিবর্তন: 'পাপ্পু' থেকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী

ভারতের রাজনীতিতে পরিবর্তনের গল্পে রাহুল গান্ধীর উত্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিজেপির 'পাপ্পু' তকমা থেকে শুরু করে, তিনি এখন নরেন্দ্র মোদির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবি এবং নিজের নির্বাচনী পরাজয়ের পর রাহুলের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে কংগ্রেসের পুনরুত্থান এবং রাহুলের বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে নিযুক্তি একটি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সূচনা করেছে।

রাহুলের উত্তরাধিকার ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত। তাঁর প্রপিতামহ জওহরলাল নেহরু, দাদি ইন্দিরা গান্ধী এবং বাবা রাজীব গান্ধী সকলেই প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০০৪ সালে আমেথি থেকে নির্বাচিত হওয়ার পর, কংগ্রেসের ক্রমাগত দুর্বলতা তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

২০১৪ সালে কংগ্রেসের আসন সংখ্যা ৪৪ এ নেমে যায়, যা ২০১৯ সালে ৫২ এ দাঁড়ায়। রাহুল নিজেও ২০১৯ সালে আমেথিতে পরাজিত হন, যদিও ওয়েনাডে জয়ের মাধ্যমে সংসদে থাকেন।

২০২২ সালে কন্যাকুমারী থেকে শুরু হওয়া 'ভারত জোড়ো যাত্রা' রাহুলের রাজনৈতিক পরিচয়ে নতুন মাত্রা যোগ করে। এই যাত্রার মাধ্যমে তিনি জনগণের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পান এবং কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বেকারত্ব ও দ্রব্যমূল্যের বিষয়গুলো সামনে আনা হয়।

২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে নতুন কৌশল গ্রহণ করে রাহুল। তিনি চাকরি, সামাজিক বৈষম্য এবং জাতভিত্তিক জনগণনার মতো বিষয়গুলো নিয়ে প্রচার শুরু করেন। এই প্রচারের ফলে কংগ্রেস ৯৯টি আসন লাভ করে, যেখানে বিজেপির আসন সংখ্যা ৩০৩ থেকে কমে ২৪০ তে নেমে আসে।

রাহুল গান্ধী নিজে রায়বেরেলি ও ওয়েনাড—দুই আসনে জিতলেও, তাঁর উত্থান বিরোধী জোটের সমন্বয়ের ফলও। ২০২৪ সালের জুনে তিনি লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে নিযুক্ত হন।

সংসদের বাইরেও তাঁর রাজনৈতিক লড়াই অব্যাহত রয়েছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে কেরালায় কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন জোট বিজয়ী হয়েছে, তবে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথমবারের মতো সরকার গঠনও একটি নতুন চ্যালেঞ্জ।

রাহুলের সামনে এখন প্রশ্ন, তিনি কি নিজের নেতৃত্বকে নির্বাচনী সাফল্যে পরিণত করতে পারবেন?

বিজ্ঞাপন