সাতক্ষীরার দেবহাটায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের যুবককে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর থেকে পুলিশ ও এসআরবির যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ফজলুল হক আমিনী (৪৫) দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে। তিনি পেশায় মোটরসাইকেল ভাড়াচালক। নিহত ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৪০) দেবহাটা উপজেলার বড় শান্তা গ্রামের মৃত শামছুর রহমানের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচএম শাহিন জানান, মামলার পর থেকে আমিনী গোপনে ছিলেন এবং ফেসবুক লাইভ করে তৌহিদী জনতাকে জড়ো করার আহ্বান জানান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালিগঞ্জ উপজেলা থেকে এসআরবি ও পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
১৩ অক্টোবর সন্ধ্যার পূর্বে কুলিয়া এলাকায় একটি চিকিৎসা চেম্বারে হামলা চালানো হয় ওয়াহিদুজ্জামান শামীমের উপর। তিনি বিষপান করে অসুস্থ হয়ে সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গণপিটুনির খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দেবহাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে রাত ৯টার দিকে তৌহিদী জনতা হাসপাতালে পৌঁছে সেখানে দ্বিতীয় দফা গণপিটুনি দেয়।
স্থানীয়দের মতে, ফজলুল হক আমিনী ওয়াহিদুজ্জামান শামীমের বিরুদ্ধে 'ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে' অভিযোগ এনে ফেসবুকে লাইভ করে জনতাকে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান। নিহতের ইসলাম বিদ্বেষী কথাবার্তার অডিও রেকর্ড এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
শামীম নিহত হওয়ার পর আমিনী জানিয়েছিলেন, শামীম ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে নিহতের বড় ভাই জলিল সানা বাদী হয়ে আমিনীকে প্রধান আসামী করে দশ জনের বিরুদ্ধে দেবহাটা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ২০০-২৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
এজাহার নামীয় একই উপজেলার আসাদুল ইসলাম ও মোক্তার হোসেনকে আগেই গ্রেফতার করে পুলিশ কারাগারে পাঠিয়েছে।