বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার টানা কয়েক বছর ধরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে নতুন করে দরিদ্র হয়েছে ৮০ লাখ মানুষ।
এছাড়া, দারিদ্র্যসীমার কিছুটা ওপরে থাকা প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষও দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান না বাড়লে পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ কঠিন হবে।
বাংলাদেশে খাদ্যভিত্তিক দারিদ্র্য পরিমাপে দৈনিক প্রায় ২ হাজার ১২২ ক্যালরি খাবার খেতে হয়। যাদের সেই সামর্থ্য নেই, তারা দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েন।
২০২২ সালের পর জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাংকের হিসাবে দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা এখন প্রায় সাড়ে ৫ কোটি।
রাজধানীর এক নারী বলেন, ‘চাউলের দাম, তরকারির দাম, তেলের দাম, গ্যাসের দাম সবই বাড়তি। গরীব মানুষ কীভাবে চলবে?’
বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি বছর দেশে দারিদ্র্যের হার ১ দশমিক ১ পয়েন্ট বেড়ে ২২ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০২২ সালে এই হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, খাদ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত খরচ বৃদ্ধির ফলে আয়ের বড় অংশই চলে যাচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনে। বিনিয়োগে স্থবিরতা ও শিল্পখাতের সংকট নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত করছে।
অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ জানান, ‘নতুন শিল্পায়ন ছাড়া, নতুন বিনিয়োগ ছাড়া, নতুন কর্মসংস্থান ছাড়া কাঠামোগত সংকট কমবে না।’
বিশ্বব্যাংকের মতে, দারিদ্র্যসীমার উপরে থাকা ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ যেকোনো সময় দারিদ্র্যের নিচে চলে যেতে পারেন।