শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬
ব্রেকিং
রাজনীতি

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের বলপ্রয়োগ, ম্যাক্রোঁর উপর চাপ বাড়ছে

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের বলপ্রয়োগে তীব্র ক্ষোভ, ম্যাক্রোঁর উপর চাপ বাড়ছে।

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের বলপ্রয়োগ, ম্যাক্রোঁর উপর চাপ বাড়ছে

ফ্রান্সে স্কুল শিক্ষার্থীদের বাজেট বৃদ্ধি ও পর্যাপ্ত বরাদ্দের দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলন দমনে পুলিশের ব্যাপক বলপ্রয়োগ তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মেয়াদের শেষ মাসগুলোতে এই সহিংস অস্থিরতা ও গণআটক ঘটছে।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহে প্রায় ৮ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে, যার অধিকাংশই ১৮ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থী। দারিদ্র্যপীড়িত এলাকাগুলোতে স্কুলের পরিবেশ উন্নয়নের দাবিতে শিক্ষার্থীরা স্কুল অবরোধ ও মিছিল শুরু করে। কিন্তু বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে কিছু উগ্রপন্থী সহিংসতা ছড়িয়ে দেওয়ায় পরিস্থিতি পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে রূপ নেয়।

বিক্ষোভ দমনে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, জলকামান ও রাবার বুলেট সদৃশ অস্ত্র ব্যবহার করছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেস জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভ চলাকালে ১৮ হাজারের বেশি রায়ট-কন্ট্রোল সরঞ্জাম ব্যবহার করেছে।

গত সপ্তাহে, একটি শক্তিশালী গ্রেনেডের আঘাতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যার পর শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সেটি ব্যবহার স্থগিত করা হয়। এছাড়া, ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের চোখ আংশিক অন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

পুলিশের বিরুদ্ধে অঙ্গহানি, শারীরিক নির্যাতন ও যৌন হেনস্তার অভিযোগে ৩৬টি পৃথক তদন্ত শুরু হয়েছে। প্যারিসের পুলিশ ইউনিয়ন ‘অ্যালায়েন্স’ জানিয়েছে, সরকারের বিরুদ্ধে জীবনের ঝুঁকি তৈরির অভিযোগে আইনি মামলা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞ সেবাস্তিয়ান রোশে অভিযোগ করেছেন, সরকার রাজনৈতিক স্বার্থ অনুযায়ী বিক্ষোভ দমনের মাত্রা ঠিক করে। তিনি উল্লেখ করেন, কৃষক আন্দোলনকারীদের ক্ষেত্রে পুলিশ নমনীয়তা দেখালেও স্কুলের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে চরম কঠোরতা প্রদর্শন করছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে ম্যাক্রোঁ প্রশাসনের জনসমর্থন তলানিতে পৌঁছেছে।

বিজ্ঞাপন