মেশিনগান সজ্জিত একটি ড্রোনের পরীক্ষামূলক গুলি ছোড়ার কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (আইএআই) ও মার্কিন অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সিগ সাওয়ার। ড্রোনটির নাম 'ফায়ার স্টর্ম ২৫০', যা সিগ সাওয়ারের দূরনিয়ন্ত্রিত অস্ত্রব্যবস্থা এবং নতুন 'এম-২৫০' মেশিনগান নিয়ে সজ্জিত।
ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিতব্য 'আউসা ২০২৬' প্রদর্শনীর আগে ইসরায়েলে এই পরীক্ষা চালানো হয়। পরীক্ষায় ড্রোনটির উড্ডয়ন অবস্থায় লক্ষ্য শনাক্ত, তথ্য সংগ্রহ এবং গুলি ছোড়ার সক্ষমতা যাচাই করা হয়। এটি একটি কৃত্রিম যুদ্ধক্ষেত্রের সিমুলেশন তৈরি করে কার্যক্রম পরিচালনা করে।
ড্রোনটি নির্দিষ্ট এলাকায় অবস্থান করে নিজস্ব ক্যামেরার সাহায্যে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে এবং একক গুলি ও আধা-স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে গুলি ছোড়ে। পরীক্ষায় অস্ত্রটির নির্ভুলতা, স্থিতিশীলতা এবং নিরাপদ পরিচালনার সক্ষমতা যাচাই করা হয়।
এখনো এটি কার্যকরী প্রোটোটাইপ পর্যায়ে রয়েছে, তবে পরীক্ষায় আকাশ থেকে নজরদারি এবং দূরনিয়ন্ত্রিত অস্ত্রব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা গেছে। ফলে, ছোট সামরিক ইউনিটগুলো তাদের নিজস্ব ড্রোন ব্যবহার করে কাছাকাছি অবস্থানে থাকা বাহিনীকে সহায়তা দিতে সক্ষম হবে।
'ফায়ার স্টর্ম ২৫০' দীর্ঘ সময় ধরে আকাশে অবস্থান করে নজরদারি এবং সশস্ত্র গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এতে অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে, যা একবার জ্বালানি নিয়ে সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টা আকাশে থাকতে পারে।
ড্রোনটির ভিটিওএল সক্ষমতা থাকায় এটি রানওয়ে ছাড়াই উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারে। সিগ সাওয়ারের 'এম-২৫০' মেশিনগানে সর্বোচ্চ ২০০ রাউন্ড গুলি বহনের ব্যবস্থা রয়েছে। ২০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থান করে ৪০০-৬০০ মিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিশানা করার সক্ষমতা রয়েছে।
সিগ সাওয়ারের প্রতিরক্ষা পণ্যবিষয়ক ব্যবস্থাপক মাইক জোসলিন বলেন, ‘এমন উদ্ভাবন সেনাকে সরাসরি গুলির ঝুঁকিতে পড়তে না দেওয়ার জন্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘সেনাকে বন্দুক ধরে রাখার পরিবর্তে নিয়ন্ত্রণের ইন্টারফেসটি হাতে রাখতে হবে।’
আইএআইয়ের সামরিক উড়োজাহাজ বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট মোশে লেভি বলেন, এই পরীক্ষার ফলাফল সামরিক বাহিনীর কার্যপরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি চারপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবিচ্ছিন্ন ধারণা রাখতে সহায়তা করবে।