মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
ব্রেকিং
জিবুতি উপকূলে নৌকাডুবিতে ১৩৯ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা, নিহত ১; আহত ১১ রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় ২৪ বাংলাদেশি আহত, দুই নিহত রিয়াদের বিমানবন্দরে বিস্ফোরণের শব্দ, আগুন প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে সৌদি বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ২ বাংলাদেশির পরিচয় প্রকাশ রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত জিবুতি উপকূলে নৌকাডুবিতে ১০৯ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হুতিদের হামলায় সৌদি বিমানবন্দরে নিহত ১২, যুদ্ধের আশঙ্কা রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় জাতিসংঘ মহাসচিবের গভীর উদ্বেগ সৌদি আরবে বিমানবন্দরে হামলা, ঢাকা থেকে ৯ ফ্লাইট বাতিল
জাতীয়

গাইবান্ধায় সম্পত্তি বিরোধের জেরে আটকে বাবার দাফন

গাইবান্ধায় সম্পত্তি বিরোধের কারণে আটকে গেছে বৃদ্ধ বাবার জানাজা ও দাফন।

গাইবান্ধায় সম্পত্তি বিরোধের জেরে আটকে বাবার দাফন

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালিদহ বকশীগঞ্জ গ্রামে জমি ও সম্পত্তির ভাগ নিয়ে ভাই-বোনের মধ্যে বিরোধের কারণে আটকে গেছে বৃদ্ধ নাজির উদ্দিন বেপারীর (৭৫) জানাজা ও দাফন। তিনি রোববার (১১ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টার দিকে নিজ বাড়িতে মারা যান।

মৃত নাজির উদ্দিনের ছেলে ইদ্রিস আলী ও মেয়ে হালিমা বেগম জানায়, সোমবার সকাল ১০টায় জানাজার সময় নির্ধারণ করে মাইকিং করা হয়েছিল। কিন্তু জানাজা ও দাফনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার মুহূর্তে হালিমা বেগম জানায়, তিনি বাবার দাফনে রাজি নন।

হালিমা বেগম অভিযোগ করেন, তার ভাই ইদ্রিস আলী অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে বাবার সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিয়েছেন। ফলে তিনি পৈতৃক সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। হালিমা বলেন, আইনি ও শরীয়তসম্মত অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি বাবার দাফনে সম্মতি দেবেন না।

এ ঘটনায় পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বিএনপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিনসহ কয়েকজন ব্যক্তি বিরোধ মেটানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তারা হালিমাকে নগদ দেড় লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি।

রুহুল আমিন জানান, ঘটনাটি তার বাড়ির কাছাকাছি হওয়ায় তিনি উভয় পক্ষকে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করেছেন, কিন্তু হালিমার অনড় অবস্থানের কারণে তা সম্ভব হয়নি।

ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শিপন বলেন, সম্পত্তির বিরোধের কারণে বাবার মরদেহ আটকে রাখা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। স্থানীয়ভাবে আপোসের চেষ্টা চলছে এবং সমাধান এলেই জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।

সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম হাবিবুর রহমান জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ইদ্রিস আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, মৃত বাবার শেষ বিদায়ের অপেক্ষা এবং মেয়ের অধিকার আদায়ের আপসহীন অবস্থান মিলিয়ে পুরো এলাকায় নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন