ঝিনাইদহে খেজুর গাছ কাটার জন্য গাছিরা দলবেঁধে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অক্টোবরের শুরু থেকেই খেজুর গাছ কাটার ব্যস্ততা বেড়ে গেছে, যা শীতের আগমনী বার্তা হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
গাছি ইয়াকুব আলী জানান, নতুন প্রজন্মকে খেজুর গাছ কাটার পদ্ধতি শেখাতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘আমাদের ছেলেদের খেজুর গাছ কাটা শিখাতি পারছিনে। যে গাছটায় ওঠবে, কাটপে, সেরকম সিস্টেম নেই।’
গাছি মিন্টু মন্ডল জানান, তিনি ১২ বছর ধরে খেজুর গাছ কাটছেন এবং সিজনজুড়ে একটি গাছ থেকে ৫-৬ কেজি গুড় পাওয়া যায়। ভালো গাছ থেকে ১০ কেজিরও বেশি গুড় পাওয়া সম্ভব।
ঝিনাইদহের খেজুর রস ও গুড়ের ৪ হাজার বছরের ঐতিহ্য রয়েছে। এখানকার এক হাড়ি রসের দাম ২৫০ টাকা, ১ কেজি গুড় ৩৫০ টাকা এবং পাটালি ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ফুড ইন্সপেক্টর আমিনুল ইসলাম বলেন, গাছিদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অসুস্থ অবস্থায় রস সংগ্রহ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
খামারবাড়ির উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, কেউ ভেজাল মেশানোর চেষ্টা করলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলার কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ঝিনাইদহে ১ লক্ষ ৪৮ হাজার ৯৬৬টি খেজুর গাছ রয়েছে, যা গতবছরের তুলনায় ৬ হাজারটি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর রস উৎপাদন হয়েছিল ১১ লাখ ১১ হাজার লিটার এবং গুড় উৎপাদন হয়েছিল ৫৫৪ মেট্রিক টন।