ব্যক্তি পর্যায়ে হাতি পালন করার জন্য সরকার বেসরকারি বিনিয়োগ খুঁজছে। সরকার দেশের বিভিন্ন স্থানে হাতির আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে দেশে ৮৬টি হাতি রয়েছে, কিন্তু বন বিভাগের কাছে পর্যাপ্ত অর্থ ও জনবল নেই এই হাতিগুলোর ব্যবস্থাপনার জন্য।
হাতির মালিক ও দেশি-বিদেশি অভিজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষক ও প্রাণী অধিকার কর্মীরা। মৌলভীবাজার জেলা, বিশেষ করে কুলাউড়ায় সবচেয়ে বেশি হাতি পালন করা হয়। কুলাউড়ার আব্দুর রশিদের তিনটি হাতির মধ্যে দুটি ভাড়া খাটে, কিন্তু এ থেকে আয় হওয়া অর্থে হাতির খোরাক জোগানো সম্ভব হচ্ছে না। রশিদ বন বিভাগের কাছে হাতি বিক্রি করতে আগ্রহী।
প্রাণী অধিকার কর্মী রাকিবুল হক এমিল জানান, ব্যক্তি পর্যায়ে পালন করা হাতি সাধারণত সার্কাস ও রাস্তায় চাঁদা তোলার জন্য ব্যবহৃত হয়। এ জন্য নির্মম প্রশিক্ষণের মাধ্যমে হাতিগুলোকে প্রস্তুত করা হয়, যা অনেক অল্প বয়সী হাতির মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। খাদ্যাভাব ও দুর্ঘটনার কারণে অনেক হাতি অসুস্থ হয়ে মারা যায়।
বন সংরক্ষক ছানাউল্যা পাটওয়ারী বলেন, গাজীপুর সাফারি পার্কে কিছু হাতি রাখার জন্য নতুন শেড ও খাল তৈরি করা হয়েছে। তবে, দেশে ৮৬টি হাতি থাকলেও সবগুলো রাখার সক্ষমতা বন বিভাগের নেই।
পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, পালা হাতির জন্য বড় অশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য সরকার বেসরকারি বিনিয়োগের দিকে নজর দিচ্ছে। গবেষক ও প্রাণী অধিকার কর্মীরা বলছেন, হাতির শরীরে মাইক্রোচিপ বসানো জরুরি এবং লালনপালন বিধিমালা চূড়ান্ত করা প্রয়োজন।