ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভের কারণে আটক হওয়া ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ ও তার দুই সহযোগী সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা মুক্তি পেয়েছেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) তাদের আটক করা হয়েছিল, এবং রোববার (১১ অক্টোবর) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করার পর এক বছর শান্তি ভঙ্গ না করার শর্তে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।
মুক্তির পর সিজেপি দুপুর ২টায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। দলের সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা সাংবাদিকদের জানান, এই সম্মেলনে বিক্ষোভ, আটকের ঘটনা এবং পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে।
এর আগে, শনিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি 'যন্তর মন্তর ২.০' নামে বিক্ষোভের ডাক দেয়। ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই কর্মসূচির আয়োজন করে তারা।
বিক্ষোভের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন করা হয়, এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যারিকেড বসানো হয়। শুক্রবার রাত থেকে ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়।
এদিকে, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপের আটক হওয়ার পর আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন সংগঠক অজিঙ্কা শিন্ডে। তিনি বলেন, পুলিশ তাদের থামানোর চেষ্টা করলেও আন্দোলন বন্ধ হবে না।
বিক্ষোভের সময় মমতা ব্যানার্জি এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালসহ বেশ কয়েকজন বিরোধী নেতা আটক হন। তাদের মধ্যে মমতা ব্যানার্জি এবং তার দলের ছয় নেতাকে পুলিশ আটক করে। কেজরিওয়াল অভিযোগ করেন, দেশের গণতন্ত্রকে দমন করার চেষ্টা চলছে।
বিক্ষোভের ঘটনায় দিল্লিতে কয়েক হাজার মানুষকে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে অন্তত চার হাজার বিক্ষোভকারী পরে মুক্তি পান। সিজেপির নেতাদের মুক্তির পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।