দুর্নীতি কেলেঙ্কারি, তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণ ও ভোটারদের বাড়তে থাকা অনাগ্রহের মধ্য দিয়ে রোববার ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন কোটি কোটি মানুষ। দুই পরিচিত রাজনৈতিক শিবিরের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন বামপন্থি প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং ডানপন্থি সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো।
অ্যামেরিকাস কোয়ার্টারলির প্রধান সম্পাদক ব্রায়ান উইন্টার বলেন, এটি ব্রাজিল ও লাতিন আমেরিকার ভবিষ্যৎ নিয়ে দুই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির লড়াই। ভোটার উপস্থিতি সাধারণত আমেরিকা মহাদেশের অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি হলেও, এবারের নির্বাচনে ভোটারদের অনাগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
লুলা, যিনি ৮০ বছর বয়সে চতুর্থ এবং সম্ভবত শেষবারের মতো প্রেসিডেন্ট হওয়ার লড়াইয়ে নেমেছেন, ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে ব্রাজিল শাসন করেছেন। তবে দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে ৫৮০ দিন কারাগারে ছিলেন। ২০২১ সালে সুপ্রিম কোর্ট তার সাজা বাতিল করে রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়।
ফ্লাভিও বলসোনারো, যিনি বাবার গড়া রাজনৈতিক আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, বর্তমানে কারাবন্দি সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে। জইর বলসোনারো ২৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ায় নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না।
প্রথম দফার ভোটের আগে প্রকাশিত জনমত জরিপে লুলা ৪৭.৮ শতাংশ ভোট পেয়ে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। ফ্লাভিও বলসোনারোর সমর্থন ৪২.১ শতাংশ। দ্বিতীয় দফার ভোট ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে।
লুলা বহুপাক্ষিকতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার চেষ্টা করছেন। ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং মার্কিন নীতির কারণে ব্রাজিলের অবস্থান নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে।
লুলা সম্প্রতি বলেছেন, ‘ব্রাজিল কারও পেছনের উঠান নয়।’ এদিকে, ফ্লাভিও ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। জুলাইয়ে নেতানিয়াহু ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ফ্লাভিওকে সমর্থন জানান।