সাইবার অপরাধ দমনের লক্ষ্যে সরকার সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। ১৩ সেপ্টেম্বর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ প্রস্তাবিত সংশোধনী প্রকাশ করেছে, যা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
অধিকারকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, এই প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো মতপ্রকাশ ও বাক স্বাধীনতার ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়াবে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, "এ আইন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাক স্বাধীনতা ব্যাপকভাবে খর্ব করবে।"
তিনি আরও জানান, আইনটির উদ্দেশ্য নির্বাহী বিভাগ ও আমলাতন্ত্রের একচ্ছত্র ক্ষমতা নিশ্চিত করা। "এটি জনগণের অধিকার হরণের বড় হাতিয়ার হবে," মন্তব্য করেন তিনি।
সংশোধনীতে নতুন করে ‘গুজব’ ও ‘অপতথ্য’ ছড়ানোর অপরাধ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার শাস্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড অথবা ৪০ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে।
এছাড়া, মানহানি ও বুলিংয়ের শাস্তি ৫ বছর কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে। ভুক্তভোগী নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু হলে শাস্তি আরও কঠোর হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সরকার অনুমোদিত সংস্থাগুলোর কাছে অনলাইন কনটেন্ট অপসারণের ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। টিআইবির অভিযোগ, অংশীজনদের মতামত ছাড়া একতরফা এই খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।
সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, "সরকার যে আইন করছে তা বোধগম্য নয়। এটি ভবিষ্যতে নির্যাতনের হাতিয়ার হতে পারে।"
এ ধরনের নিবর্তনমূলক আইন বৈদেশিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করবে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।