ঝালকাঠিতে বিষখালী নদীর তীব্র ভাঙনের কারণে একের পর এক স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে স্কুল, মসজিদ এবং সাইক্লোন শেল্টারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদীতীর রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় ৫টি গ্রামের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যা স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের জন্য চরম বিপদের সৃষ্টিকারী।
ঝালকাঠি সদরের পশ্চিম দেউরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সাইক্লোন শেল্টার ইতোমধ্যে ভাঙনের কবলে পড়েছে। প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আশ্রয়কেন্দ্রটির একাংশ নদীতে বিলীন হয়েছে এবং পুরো ভবন যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে।
রাজাপুরের পশ্চিম বাদুরতলার প্রায় ৩০০ ফুট বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়াও, নলছিটির নাচনমহলে নদীগর্ভে বিলীনের ঝুঁকিতে রয়েছে ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঝালকাঠির নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম নিলয় পাশা বলেন, 'প্রস্তাবিত ২২ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত এলাকাটি। বরাদ্দ পেলে স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে।'
ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল জানান, 'ভাঙনকবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।'
ভাঙন অব্যাহত থাকায় নদীতীরের মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আরও বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।