স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশে রিটেইল ব্যাংকিং সেবা গুটিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ব্যাংকটি বাংলাদেশ ছাড়ছে না, বরং তারা তাদের রিটেইল ব্যাংকিং পোর্টফোলিও বিক্রি বা বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
রিটেইল ব্যাংকিং বলতে সাধারণ মানুষের জন্য ব্যাংকিং সেবা বোঝায়, যেমন সেভিংস বা কারেন্ট অ্যাকাউন্ট, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, পার্সোনাল লোন বা হোম লোন। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড করপোরেট ব্যাংকিং সেবা আগের মতোই চালিয়ে যাবে।
ব্যাংকটির এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে তাদের বৈশ্বিক কৌশল। বিশ্বজুড়ে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ক্রস-বর্ডার ব্যাংকিং, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বড় করপোরেট ক্লায়েন্টদের ওপর বেশি ফোকাস করছে। রিটেইল ব্যাংকিংয়ে বাড়তি খরচ এবং কমপ্লায়েন্সের চাপে আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলো এই খাত থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছে।
বাংলাদেশের সাধারণ গ্রাহকদের জন্য এটি ক্ষতির চেয়ে লাভের সম্ভাবনা বেশি। দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলো স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের বিশাল রিটেইল পোর্টফোলিও কেনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, ফলে গ্রাহকদের সেবা বন্ধ হচ্ছে না। বরং দেশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়বে, যা গ্রাহকদের জন্য উন্নত প্রযুক্তি ও সেবা নিয়ে আসতে পারে।
বাংলাদেশে বিদেশি ব্যাংকের হাতবদল নতুন কিছু নয়। নব্বইয়ের দশকে বিসিসিআই বন্ধ হওয়ার পর ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড তার সবকিছু গ্রহণ করে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ও এইচএসবিসির মতো ব্যাংকগুলো রিটেইল বাজার থেকে সরে দাঁড়ানোর ফলে ব্যাংকিং খাতের পরিবর্তন স্পষ্ট হচ্ছে।