বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল আসিয়ান কাপের জন্য ২৩ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে এবং ইতোমধ্যে ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছে। দলের মধ্যে হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমের মতো পরিচিত মুখের পাশাপাশি নতুন তিন প্রবাসী ফুটবলার—ফারহান আলী ওয়াহিদ, জিদান ইউসুফ ও শুকি ইতোফুসা যুক্ত হয়েছে। তবে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মান এবং গোলকিপার সাইফ কেরাওয়ালা দলের বাইরে থাকায় কিছুটা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
কোচ থমাস ডুলি জানিয়েছেন, তপু বর্মান চোটের কারণে পুরোপুরি ফিট না হওয়ায় তাঁকে দলে নেওয়া হয়নি। তপুর অভাব রক্ষণের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে, কারণ আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের গ্রুপে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া রয়েছে।
রক্ষণে নতুন মুখ থাকলেও অভিজ্ঞতা রয়েছে। তারিক কাজী, সাদ উদ্দিন, রহমত মিয়া ও শাকিল আহাদ রক্ষণের দায়িত্ব পালন করবেন। তবে তপুর অভাব পূরণ হওয়া কঠিন। বাংলাদেশের গত দুই বছরের পরিসংখ্যানও উদ্বেগজনক; ১১ ম্যাচে ১২ গোল হজম করেছে দল।
গোলকিপার পজিশনে সাইফ কেরাওয়ালার অনুপস্থিতি একটি বড় সমস্যা। গোলকিপার হিসেবে মিতুল মারমা, সুজন হোসেন ও মেহেদী হাসান শ্রাবণকে নির্বাচিত করা হয়েছে। গোল হজমের কারণে বাংলাদেশ সম্প্রতি বেশ কিছু ম্যাচে ড্র বা হেরেছে।
প্রবাসী ফুটবলারদের মধ্যে ফারহান আলী ওয়াহিদকে নিয়ে বিশেষ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। কোচ ডুলি জানিয়েছেন, ফারহানের গোল করার দক্ষতা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে ফারহানকে ত্রাণকর্তা হিসেবে দেখতে চান না তিনি, কারণ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারফর্ম করতে কিছু সময় প্রয়োজন।
মাঝমাঠে হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, জামাল ভূঁইয়া, সোহেল রানা, হৃদয় ও মোরসালিনের উপস্থিতি দলের শক্তি। তবে গোল করার সমস্যা এখনও রয়ে গেছে। আক্রমণভাগে ফারহান, রাকিব, মোরসলিন ও শুকি রয়েছেন, কিন্তু নিয়মিত গোল করার দায়িত্ব কে নেবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
বাংলাদেশের আসিয়ান কাপের প্রথম ম্যাচ মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ২৫ সেপ্টেম্বর। এরপর সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ রয়েছে। দলের প্রস্তুতি কেমন হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।