মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

ইরানে সাধারণ নাগরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা

ইরানে সাধারণ নাগরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলছে।

ইরানে সাধারণ নাগরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা

সম্প্রতি ইরানে অনুষ্ঠিত সরকার-সমর্থিত একটি বিশাল সমাবেশে সাধারণ নাগরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য শুধুমাত্র বিদেশি হামলার মোকাবিলা নয়, বরং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানো এবং বাজিসের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারও হতে পারে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তেহরানের বিভিন্ন সড়কে সামরিক সরঞ্জামের ছবি সংবলিত বড় বড় ব্যানার দেখা যাচ্ছে। ব্যানারগুলিতে রকেটচালিত গ্রেনেড, স্নাইপার রাইফেল এবং অ্যাসল্ট রাইফেলের ছবি রয়েছে, যেখানে প্রশ্ন করা হয়েছে, "আপনি কি জানেন, এসব অস্ত্র কিভাবে কাজ করে?"

শুক্রবার, তেহরানের রাস্তায় অস্ত্র হাতে নারী ও শিশুদেরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এটি ছিল যুদ্ধ শুরুর পর দেশটির অন্যতম বড় প্রকাশ্য সামরিক মহড়া। এই কর্মসূচির নামকরণ করা হয়েছে "জানফাদায়ে ইরান" অর্থাৎ, ইরানের জন্য জীবন উৎসর্গকারী।

মহড়ায় শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে, এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারীও এতে অংশগ্রহণ করেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, সাধারণ নাগরিকদের সম্ভাব্য সংকট ও যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি শক্তি মোকাবিলার পাশাপাশি বিপ্লবী গার্ডের স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী বাসিজের পুরোনো দেশপ্রেমিক ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। চলমান অর্থনৈতিক সংকট এবং অতীতের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা মোকাবিলার প্রস্তুতিও এর অংশ হতে পারে।

এছাড়া, ইরানের নিরাপত্তা কৌশলে সাধারণ নাগরিকদের আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার প্রবণতা স্পষ্ট হচ্ছে। এই ঐক্যের বার্তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বিজ্ঞাপন