ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে দালাল চক্রের কারণে হাজারো রোগী প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সরলতাকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে তারা।
দালালরা রোগীদের সহায়তাকারী সেজে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বেসরকারি ডায়াগনস্টিকে পাঠিয়ে দেয়, ফলে রোগীদের কাছ থেকে কয়েক গুণ বেশি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকায় চিকিৎসা নিতে আসা বাবু মিয়া জানান, তিনি জানতেন না যে দালালের খপ্পরে পড়েছেন। ডাক্তার যে পরীক্ষার কথা বলেছেন, তা করাতে তিনি সড়কের উল্টো পাশে একটি ডায়াগনস্টিকে যান।
এক ভুক্তভোগী বলেন, "আমরা তো বুঝি না। আমাদেরকে বাইরে থেকে দেখিয়ে দিয়েছে যে, এখানে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হবে।" এভাবে অনেক রোগী দালালদের হাত থেকে প্রতারিত হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপজেলা পর্যায়ে ভালো চিকিৎসা নিশ্চিত না হলে এই সমস্যার সমাধান হবে না। শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মির্জা জিয়াউল ইসলাম বলেন, "দালাল রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার চরম শাস্তি হওয়া উচিৎ।"
চিকিৎসাবিজ্ঞানী অধ্যাপক ডা. লিয়াকত আলী বলেন, "মানসম্পন্ন পাবলিক সেক্টর না থাকলে দালালদের কার্যকলাপ বন্ধ হবে না।"
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গেট পেরোলেই একের পর এক বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। গ্রামের হাজারো রোগী প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে এসে দালালদের খপ্পরে পড়ছেন এবং বাড়তি টাকা খরচ করছেন।