শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
ফিচার

মানুষ কেন ‘বাঁশ’ খায়? জানুন এর অর্থ ও প্রেক্ষাপট

মানুষ ‘বাঁশ’ খাওয়া বলতে বোঝায় বিপদে পড়া বা অপমানিত হওয়া। আজ বিশ্ব বাঁশ দিবস।

মানুষ কেন ‘বাঁশ’ খায়? জানুন এর অর্থ ও প্রেক্ষাপট

সদ্য প্রেমের বিচ্ছেদে হতাশ আকরাম হোসেন চায়ের আড্ডায় বন্ধুদের সঙ্গে বসে ছিলেন। মন খারাপের কারণ জানতে সবাই চেষ্টা করলেও তিনি কিছুই বলছিলেন না। হঠাৎ করে তিনি বলেন, ‘কাছের মানুষ তাকে বাঁশ দিয়েছে।’

বাংলা ভাষায় ‘বাঁশ খাওয়া’ বা ‘বাঁশ দেওয়া’ একটি প্রচলিত রূপক। ‘বাঁশ দেওয়া’ বলতে কাউকে বিপদে ফেলা বা ঠকানো বোঝানো হয়। অন্যদিকে, ‘বাঁশ খাওয়া’ মানে কোনো পরিস্থিতিতে বিপদে পড়া বা অপমানিত হওয়া। ভাষাবিদদের মতে, কথ্য ভাষায় এমন অনেক শব্দ রয়েছে, যেগুলো আক্ষরিক অর্থ ছাড়িয়ে ভিন্ন অর্থ বহন করে।

আজ বিশ্ব বাঁশ দিবস। ২০১০ সাল থেকে প্রতিবছর ১৮ সেপ্টেম্বর এই দিবসটি পালন করা হচ্ছে। ‘ওয়ার্ল্ড ব্যাম্বু অর্গানাইজেশন (ডব্লিউবিও)’ বাঁশের উপকারিতা তুলে ধরতে এই দিবসটি উদযাপন করে। ২০২৬ সালের দিবসের বার্তায় ডব্লিউবিও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য বাঁশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে।

‘বাঁশ খাওয়া’ বলতে বোঝানো হয় এমন সব পরিস্থিতিকে যেখানে কেউ অপ্রত্যাশিতভাবে বিপদে পড়ে। বন্ধুর কাছ থেকে বিশ্বাসঘাতকতা, প্রিয় মানুষের দূরে সরে যাওয়া, কিংবা পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল না পাওয়া এসবই ‘বাঁশ খাওয়ার’ উদাহরণ।

অন্যদিকে, বাস্তব জীবনের বাঁশ কিন্তু নেতিবাচক কিছু নয়। এটি নির্মাণ, আসবাব, খাদ্য, এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই মানুষ কথার ছলে ‘বাঁশ খেলেও’, প্রকৃত বাঁশ প্রকৃতি ও মানুষের জন্য এক মূল্যবান সম্পদ।

বিজ্ঞাপন