মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিকল্প পথে তেল সরবরাহ অব্যাহত থাকার আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানির দাম কমেছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) টানা তৃতীয় দিনের মতো তেলের দাম কমেছে। তবে, ব্যারেলপ্রতি দাম এখনও ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার গ্রিনিচ সময় রাত ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বা ১ দশমিক ১ ডলার কমে ১০৩ দশমিক ৭৭ ডলারে বিক্রি হয়েছে। একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১০০ দশমিক ৮৮ ডলারে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবারও দুই ধরনের তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমেছিল।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের মধ্যে নতুন পাল্টাপাল্টি হামলার পরও তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন না ঘটার সম্ভাবনা বাজারে স্বস্তি তৈরি করেছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে তেলের দাম প্রায় চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল।
সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ স্থগিত এবং ইউরোপে কিছু চালান বাতিলের খবরের পর বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়। সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে গত সপ্তাহের হামলায় ক্ষতি হওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, পাইপলাইনের তিনটি পাম্পিং স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি স্টেশন আগের ধারণার চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, পাইপলাইনটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত প্রভাবিত হতে পারে।
তবে সৌদি আরব দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিচ্ছে। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দিনের মধ্যেই ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের অর্ধেক সক্ষমতা পুনরায় চালু করার চেষ্টা করছে রিয়াদ। পাশাপাশি, ওমানের সোহর বন্দর এলাকায় জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে এশিয়ার পরিশোধনাগারগুলোতে অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইটও জানিয়েছেন, কয়েক দিনের মধ্যেই ওই পাইপলাইন দিয়ে তেল প্রবাহ শুরু হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে ‘অবৈধভাবে’ চলাচলের চেষ্টা করার সময় টোগো পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস নৌবাহিনী।
বাজারের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও। জেপি মরগ্যান জানিয়েছে, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো তেলের বাজার নিয়ে তাদের কাছে নির্দিষ্ট পূর্বাভাস নেই।
অন্যদিকে, জুনে হওয়া একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে কোনো শান্তি আলোচনা হয়নি। আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট আলোচনায় আসতে পারে।