ভারত আবারও চ্যাম্পিয়ন হলো, কিন্তু হাতে নেই ট্রফি। শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে অষ্টমবারের মতো নারী এশিয়া কাপ জিতে খালি হাতে উদ্যাপন করতে হলো হারমানপ্রীত কৌরের দলের। গত বছর ছেলেদের এশিয়া কাপেও একই ঘটনা ঘটেছিল।
দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে পরাজিত করে ভারত। কিন্তু পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ৫০ মিনিট অপেক্ষার পরও ট্রফি গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায় ভারত। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট মহসীন নাকভি ট্রফি দিতে চাইলে ভারতীয় দল মঞ্চে আসেনি।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাকভি একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি পাকিস্তান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান। বিসিসিআইয়ের সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া বলেন, “রাজনীতি এবং জাতীয় সুরক্ষা যেখানে জড়িত, সেখানে প্রতিপক্ষ দেশের সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির হাত থেকে ট্রফি নেওয়া সম্ভব নয়।”
২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে কাশ্মীরের পেহেলগামে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী হামলার পর সম্পর্ক আরও খারাপ হয়। ভারতীয় বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা হলেও করমর্দন বা হ্যান্ডশেক করবে না ভারত।
তবে বিসিসিআই সচিব জানান, ভারত সরকার কূটনৈতিক নীতির কারণে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে সব দেশের বিপক্ষে খেলবে। বিশ্ব ক্রিকেটের অর্থনীতির বড় অংশ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ওপর নির্ভরশীল। তাই পুরো টুর্নামেন্ট বয়কট করা সম্ভব নয়।
ভারত ট্রফি না নিয়ে নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করছে, যা রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে। এই ঘটনা খেলাধুলা ও রাজনীতির মধ্যে টানাপোড়েনের এক নতুন উদাহরণ।