হবিগঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে গাছ চুরির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গোয়েন্দা সংস্থা একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছে, যেখানে বন উজাড়ের পেছনে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের প্রায় ২৪৩ হেক্টর বনাঞ্চলে গাছ কাটা হচ্ছে। বন বিভাগের ৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এই অঞ্চলের দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ৭ জুলাই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
২১ জুলাই অভিযুক্ত বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সাতছড়ি বন্যপ্রাণী রেঞ্জের কর্মকর্তা মোবারক হোসেন জানিয়েছেন, মামলার বিষয়টি সংবেদনশীল এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জড়িত থাকার কারণে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরে মামলা করা হয়েছে।
সাতছড়ি বন থেকে গত ১৬ মাসে প্রায় ১৫ লাখ টাকার গাছ অবৈধভাবে কাটা ও চুরি হয়েছে। বন বিভাগ বাদী হয়ে ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। একই অভিযোগ রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যেও রয়েছে, যেখানে ৩৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রহমান জানিয়েছেন, বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো যোগসাজশ নেই। তবে পরিবেশকর্মীরা অভিযোগ তুলেছেন, মামলার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম দেখানো হয়েছে।
পুলিশ মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে, তবে কয়েক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পরিবেশ আন্দোলনের সদস্য তোফাজ্জল সোহেল বলেছেন, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি যাচাই না করে মামলা করা উচিত হয়নি। সুশাসনের জন্য নাগরিকের সভাপতি অ্যাডভোকেট ত্রিলোক কান্তি চৌধুরী বিজনও একই মত পোষণ করেছেন।