স্মার্টফোনের বাজারে অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের মধ্যে প্রতিযোগিতা নতুন করে তীব্র হচ্ছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) অ্যাপল তাদের নতুন ফোল্ডেবল স্মার্টফোন 'আইফোন ডুও' উন্মোচন করেছে, যার দাম ১ হাজার ৯৯৯ ডলার।
ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে অ্যাপলের প্রবেশ নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে, যা দীর্ঘদিন ধরে স্যামসাং ও হুয়াওয়ের মতো চীনা কোম্পানির দখলে ছিল। আইফোন ডুওর নকশা পাসপোর্টের মতো ভাঁজ করা, যা স্যামসাংয়ের 'গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮'-এর সাথে তুলনাযোগ্য।
কাউন্টারপয়েন্টের সহযোগী পরিচালক লিজ লি বলেন, অ্যাপলের এই দাম নির্ধারণ এবং স্যামসাংয়ের ফোনের চেয়ে মাত্র ১০০ ডলার বেশি রাখা একটি সাহসী সিদ্ধান্ত। তিনি জানান, অ্যাপলের প্রবেশ ফোল্ডেবল ফোনের প্রতিযোগিতার চিত্র পরিবর্তন করতে পারে।
বর্তমানে স্যামসাংয়ের বাজারে ৩৮ শতাংশ দখল রয়েছে এবং তাদের উৎপাদন সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা আছে। অ্যাপল চলতি বছর ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে ২৫ শতাংশ দখল করতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।
অ্যাপলের ফোন উন্মোচনের পর স্যামসাংও প্রচারণায় নেমেছে। তারা সিউল, টোকিও ও লন্ডনের বড় শহরে 'ওয়েলকাম টু ফোল্ডেবল' স্লোগান ব্যবহার করছে।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে স্যামসাং অ্যাপলের ফোনের নতুনত্বের ঘাটতি নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করেছে। এর আগে অ্যাপলের সিইও জন টার্নাস ফোল্ডেবল ফোনগুলোকে 'দুটি ফোনকে অস্বস্তিকরভাবে জোড়া লাগানোর মতো' বলে সমালোচনা করেছিলেন।
২০১৯ সালে প্রথম পাবলিক মার্কেটে ফোল্ডেবল ফোন উন্মোচন করে স্যামসাং, কিন্তু শুরুতে স্ক্রিন ভেঙে যাওয়া ও ডিসপ্লে-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে বাজারজাতকরণ পিছিয়ে দিতে হয়েছিল। বর্তমানে স্যামসাংয়ের ফোল্ডেবল ফোনের আটটি প্রজন্ম বাজারে রয়েছে।
এদিকে, অ্যাপলের নতুন ফোনের ফোল্ডেবল ডিসপ্লে তৈরিতে স্যামসাংয়ের সহযোগী প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ডিসপ্লে কাজ করছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষক বেন উড বলেন, অ্যাপল বাজারে প্রবেশের সময় সঠিকভাবে বেছে নিতে দক্ষ।