ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করেছে অ্যাপল। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ‘ডুও’ নামে পাসপোর্ট আকৃতির ভাঁজযোগ্য আইফোন উন্মোচন করা হয়। এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৯৯ ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা)।
অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী (সিইও) জন টার্নাসের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে নতুন ডিভাইসটি প্রদর্শিত হয়। ২০১৭ সালে আইফোন এক্স বাজারে আসার পর এটি অ্যাপলের ফ্ল্যাগশিপ পণ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি।
আইফোন ডুওর ডিজাইন পাসপোর্টের মতো এবং এর প্রান্তগুলো গোলাকার। ফোনটি খুললে ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চি তির্যক মাপের ডিসপ্লে পাওয়া যাবে, যা অনুভূমিক ও উল্লম্ব— উভয়ভাবেই ব্যবহার করা যাবে। ভাঁজ করা অবস্থায় সামনে একটি ছোট স্ক্রিন থাকবে। অ্যাপলের দাবি, পুরোপুরি খোলা অবস্থায় এটি তাদের সবচেয়ে পাতলা আইফোন।
জন টার্নাস বলেন, নতুন ফোনটি পকেটে বহনযোগ্য একটি ডিভাইসে আইপ্যাডের মতো অভিজ্ঞতা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এতে বিশেষ হিঞ্জ, দুইটি সামঞ্জস্যপূর্ণ ডিসপ্লে এবং টাইটানিয়ামের বডি ব্যবহৃত হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অ্যাপলের প্রবেশ ফোল্ডেবল ফোনের বাজারকে দ্রুত বড় করতে পারে। ইন্টারন্যাশনাল ডেটা করপোরেশন (আইডিসি) ধারণা করছে, অ্যাপল আগামী বছরের শেষ নাগাদ বাজারের প্রায় ৪০ শতাংশ দখল করতে সক্ষম হবে।
আইফোন ডুওকে ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার উপযোগী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে একসঙ্গে একাধিক অ্যাপের উইন্ডো চালানোর সুবিধা রয়েছে। বড় স্ক্রিনে জুম মিটিং ও স্ল্যাকের মতো অ্যাপ ব্যবহারের সুবিধাও প্রদর্শিত হয়েছে।
অ্যাপল জানিয়েছে, ২৩ অক্টোবর থেকে বাজারে পাওয়া যাবে আইফোন ডুও। এতে থাকবে এ২০ প্রো চিপ এবং অ্যাপলের নিজস্ব সি২ মডেম। দুই স্ক্রিনে বিভিন্ন কাজ মিলিয়ে ব্যাটারি প্রায় ২৪ ঘণ্টা চলবে এবং মাত্র ২০ মিনিটে ব্যাটারি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করা যাবে।
ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে অ্যাপলের প্রবেশ স্যামসাংয়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০১৯ সালে এই প্রযুক্তি বাজারে আনার পর স্যামসাং ইতোমধ্যে নিজেদের ফোল্ডেবল ফোনের প্রচারণা জোরদার করেছে।
পিপি ফোরসাইটের প্রতিষ্ঠাতা পাওলো পেসকাতোরে বলেন, বিশেষ করে উত্তর আমেরিকার বাজারে অ্যাপলের প্রবেশ স্যামসাংয়ের জন্য বড় হুমকি।
অনুষ্ঠানে আইফোন ১৮ প্রো ও ১৮ প্রো ম্যাক্সও উন্মোচন করা হয়েছে। এগুলোর দাম শুরু হবে যথাক্রমে ১ হাজার ১৯৯ ও ১ হাজার ২৯৯ ডলার থেকে।