শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

হরমুজ সংঘাত: উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকি

হরমুজ প্রণালীতে সামরিক সংঘাত পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে ফেলছে উপসাগরীয় অঞ্চলকে।

হরমুজ সংঘাত: উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকি

হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক সংঘাত গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিবেশকে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে ফেলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সংঘাতের ফলে হরমুজের তেলবাহী জাহাজে হামলা হলে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটতে পারে, যা ভয়াবহ মানবিক সংকটে রূপ নেবে।

বিশ্লেষকরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা হরমুজ প্রণালী ও তার চারপাশের জলপথকে বিপর্যয়ের বারুদে পরিণত করেছে। সাম্প্রতিক হামলায় একাধিক তেলের ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হরমুজের জলপথ দিয়ে প্রতিদিন কোটি কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল করে, ফলে বড় ধরনের হামলায় সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বেসরকারি সংস্থা মেরিনট্রাফিকের তথ্যমতে, বর্তমানে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অপেক্ষায় ওমান উপসাগর ও বৃহত্তর আরব উপসাগরীয় অঞ্চলে শত শত জাহাজ অবস্থান করছে, যার মধ্যে অন্তত ১৮টি বড় তেলবাহী নৌযান রয়েছে। এসব জাহাজের সম্মিলিত ধারণক্ষমতা প্রায় ১ কোটি ৭৬ লাখ ঘনমিটার, যা বিশ্বের দৈনিক তেলের চাহিদার ১১ শতাংশের সমান।

সংঘাতের ফলে এসব বাণিজ্যিক নৌযানে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা জাহাজডুবির ঘটনা ঘটলে গোটা অঞ্চলের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ঝুঁকির মুখে পড়বে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, আরব সাগরের পানি ভারত মহাসাগরে ছড়িয়ে পড়লে পুরো উপসাগরীয় বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হতে পারে।

১৯৯১ সালে ইরাকের বিরুদ্ধে মার্কিন ডেজার্ট স্টর্ম অভিযানের সময় ওমানের উপকূলে ৮ লাখ ব্যারেল তেল ছড়িয়ে পড়েছিল, যার ফলে প্রবাল প্রাচীর, জলজ বন ও সামুদ্রিক ঘাসের স্তর দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির মুখে পড়েছিল। বর্তমান সংঘাতেও সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়লে প্ল্যাঙ্কটন ও মাছের লার্ভা বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে।

উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের বিশুদ্ধ পানির চাহিদার জন্য সম্পূর্ণভাবে সমুদ্রের পানি পরিশোধন কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। সাগরের পানি দূষিত হলে এই পরিশোধন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে, যার ফলে এ অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে।

বিজ্ঞাপন