যুক্তরাষ্ট্রের জনগণনা প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের জন্য একটি প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, কিছু বৈধ ও অবৈধ অভিবাসীকে জনগণনার হিসাব থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে, যা মার্কিন হাউসের আসন সংখ্যা নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়।
বাণিজ্য বিভাগ বুধবার প্রকাশিত প্রস্তাবে জানায়, মার্কিন নাগরিক ও আইনি স্থায়ী বাসিন্দাদের জনগণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে, কিন্তু অস্থায়ী বৈধ স্থatus বা অবৈধ অভিবাসীদের বাদ দেওয়া হবে। জনগণনার এই পরিবর্তনটি সরকারি সম্পদ বিতরণ এবং প্রতিনিধি পরিষদের আসন সংখ্যা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।
প্রস্তাবনায় জাতিগত এবং নৃগোষ্ঠী সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন বাদ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে, যা প্রশাসনের মতে, এই প্রশ্নগুলোর অর্থ ও গুরুত্ব নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এটি উল্লেখ করে যে, প্রশ্নগুলোর সীমাবদ্ধতা জনগণনায় অংশগ্রহণ বাড়াতে সাহায্য করবে।
এছাড়া, প্রস্তাবনায় নাগরিকত্বের অবস্থা যাচাই করার জন্য নতুন প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত করার কথাও রয়েছে। বর্তমানে, জনগণনায় মিথ্যা তথ্য দেওয়া একটি ফেডারেল অপরাধ। তবে, এই প্রস্তাব নাগরিকত্বের বিষয়ে উত্তরগুলোকে অন্যান্য সরকারি রেকর্ডের সাথে মিলিয়ে দেখার প্রস্তাব করছে।
সমালোচকরা এই প্রস্তাবকে ট্রাম্পের ব্যাপক বিতাড়ন অভিযানের অংশ হিসেবে দেখছেন, যা মার্কিন ইতিহাসের বৃহত্তম বিতাড়ন হতে পারে। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, এই প্রশ্নগুলো জনগণনায় অংশগ্রহণ কমিয়ে দিতে পারে এবং এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিকৃত হতে পারে।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের গণনাতত্ত্ববিদ উইলিয়াম ফ্রে বলেন, এই প্রস্তাব জনগণনা পরিচালনার পদ্ধতিকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করছে। তিনি সতর্ক করেছেন যে, এই প্রস্তাবের ফলে জনগণনার অংশগ্রহণে একটি বিস্তৃত প্রভাব পড়তে পারে।
যদিও এই প্রস্তাবের বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে, তবে এটি জনগণের অংশগ্রহণের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণনা অফিস এই বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।