বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ ফুটবল প্রতিযোগিতা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। এই লিগের শীর্ষ পরাশক্তিদের ডাগআউটে রয়েছেন তিন মাস্টারমাইন্ড—মিকেল আর্তেতা, জাবি আলোনসো এবং আন্দোনি ইরাওলা।
তাদের ফুটবল দীক্ষার সূচনা হয়েছিল স্পেনের বাস্ক অঞ্চলের সান সেবাস্তিয়ানের একটি সাধারণ পাড়ার দল ‘আন্তিগুওকো কিরোল এলকার্তেয়া’-এর মাঠে, যখন তাদের বয়স ছিল মাত্র আট বছর। ১৯৮১ সালের শেষ থেকে ১৯৮২ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে জন্ম নেওয়া আলোনসো, আর্তেতা ও ইরাওলা একই বয়সভিত্তিক ক্যাটাগরিতে এক জার্সিতে খেলতেন।
সীমিত বাজেট ও সাধারণ সুযোগ-সুবিধার সেই ক্লাবটি আজ বিশ্ব ফুটবলকে উপহার দিয়েছে এক ঐতিহাসিক প্রজন্ম। বর্তমানে আর্সেনালকে লিগ শিরোপা জিতিয়ে আর্তেতা উত্তর লন্ডনে রাজত্ব করছেন, আলোনসো চেলসির দায়িত্বে রয়েছেন এবং ইরাওলা লিভারপুলের কোচ হিসেবে কাজ করছেন।
আন্তিগুওকোর ভাইস প্রেসিডেন্ট রবার্তো মন্তিয়েল বলেন, "আমরা স্রেফ পাড়ার একটি স্থানীয় ক্লাব। সৌভাগ্যবশত আমরা এমন এক প্রজন্ম পেয়েছিলাম যা ফুটবল ইতিহাসে বিরল।" তিনি আরও জানান, আর্তেতা শৈশব থেকেই দলের নেতা ছিলেন, আলোনসো মাঠে দুর্দান্ত প্লেমেকার ছিলেন এবং ইরাওলা ছিলেন সহজাত ফুটবলের মৌলিক দক্ষতায় অসাধারণ।
১৯৮২ সালে স্পেনে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার ঠিক আগে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাবটির ইতিহাস রূপকথার চেয়ে কম নয়। আন্তিগুওকো থেকে উঠে আসা ৪০ জনেরও বেশি ফুটবলার পরবর্তীতে ইউরোপের শীর্ষ স্তরের ফুটবলে খেলেছেন।
১৯৯৯ সালে আলোনসো ও ইরাওলাকে দলে নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদকে ৪-২ গোলে বিধ্বস্ত করার ঘটনা ক্লাবটির সোনালী অধ্যায়ের অন্যতম বড় মাইলফলক। এছাড়া যুব কোপা দেল রে-তে লা লিগার নিয়মিত পরাশক্তি ভ্যালেন্সিয়া ও সেল্টা ভিগোর মতো ক্লাবকে বিদায় করার নজিরও রয়েছে।
প্রিমিয়ার লিগে কেন বাস্ক অঞ্চলের কোচদের এত আধিপত্য—এমন প্রশ্নের জবাবে আর্তেতা বলেন, "সান সেবাস্তিয়ানে একবার গিয়ে ঘুরে আসুন, তবেই উত্তর পেয়ে যাবেন।"
সান সেবাস্তিয়ানের ঘিপুকোয়া অঞ্চলের জনসংখ্যা মাত্র সাত লাখের মধ্যে রয়েছে এক তীব্র প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়া সংস্কৃতি ও গভীর আত্মমর্যাদাবোধ। সেই সংস্কৃতির বীজ বুকে ধারণ করেই শৈশবের আন্তিগুওকো থেকে বার্সেলোনা, রিয়াল সোসিয়েদাদ কিংবা অ্যাথলেটিক বিলবাও হয়ে আজ বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ফুটবল নিয়ন্ত্রণ করছেন আর্তেতা, আলোনসো ও ইরাওলা।