সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
শিক্ষা

নতুন জমি নামজারির নিয়ম: যা জানা জরুরি

নতুন জমি নামজারির নিয়ম সম্পর্কে জানুন এবং এর সুবিধা ও অসুবিধা সম্পর্কে সচেতন হোন।

নতুন জমি নামজারির নিয়ম: যা জানা জরুরি

জমি কিনেছেন বা উত্তরাধিকারসূত্রে মালিক হয়েছেন? দলিল রেজিস্ট্রি হলেই কি আপনি সম্পূর্ণ নিরাপদ? মোটেও না। সময়মতো নামজারি বা মিউটেশন না করালে জমি নিয়ে সমস্যা হতে পারে। সম্প্রতি ভূমি মন্ত্রণালয় নামজারি এবং উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম ঘোষণা করেছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বাবার জমি এক ভাই বা বোন চাইলেও আলাদা খতিয়ান বানিয়ে নিতে পারবেন না। নামজারি বা মিউটেশন মানে হলো জমির সরকারি রেকর্ডে নতুন মালিক হিসেবে আপনার নাম নথিভুক্ত করা। রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল করলেই কাজ শেষ হয় না, নামজারি না করলে জমির মালিকানা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, উত্তরাধিকার সম্পত্তির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে, বাবার মৃত্যুর পর ভাই-বোনরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা না করেই আলাদা নামজারি করতে পারতেন। কিন্তু নতুন নিয়মে এখন সব ওয়ারিশের নাম একসাথে একই খতিয়ানে যৌথ মালিক হিসেবে নামজারি করতে হবে।

আবেদন করার সময় মৃত ব্যক্তির সব ওয়ারিশের তথ্য, ইউপি চেয়ারম্যান বা পৌর মেয়রের ওয়ারিশ সনদ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো একজন ওয়ারিশের তথ্য বাদ পড়লে পুরো আবেদন নামঞ্জুর হতে পারে।

যদি আলাদা খতিয়ান করতে চান, তবে নিবন্ধিত আপস-বণ্টননামা থাকতে হবে। যৌথ নামজারির জন্য রেজিস্টার্ড বণ্টননামা লাগবে না, শুধু ওয়ারিশ সনদই যথেষ্ট।

নতুন নিয়মের সুবিধা হলো প্রতারণা বন্ধ হবে, মামলা-মোকদ্দমা হ্রাস পাবে এবং নামজারি আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা কমবে। তবে পরিবারের সদস্য বিদেশে থাকলে কাগজপত্র একসাথে করা কঠিন হতে পারে।

বর্তমানে ভূমিসেবা পোর্টালে অনলাইন নামজারির আবেদন করা যায়। নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে ২৮ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ হয়। জমি কেনার ৯০ দিনের মধ্যে নামজারির আবেদন করা উচিত।

বিজ্ঞাপন