পৃথিবীর মেরু অঞ্চলের বরফ গলার প্রভাব ধীরে ধীরে বৈশ্বিক সংকটে রূপ নিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অ্যান্টার্কটিকা ও গ্রিনল্যান্ডের বিশাল বরফস্তরে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, যা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ছাড়াও বৈশ্বিক জলবায়ু ব্যবস্থা ও মানুষের বসবাসের ধরনকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিজ্ঞানীরা জানান, বরফ গলার এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে পুরো পৃথিবীর ওপর। বর্তমানে বরফ গলে যাওয়ার প্রক্রিয়া মেরু অঞ্চলের বাইরে ছড়িয়ে পড়েছে, যা কোটি কোটি মানুষের বসতির জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।
পৃথিবীতে দুটি বড় বরফস্তর রয়েছে: একটি অ্যান্টার্কটিকা এবং অন্যটি গ্রিনল্যান্ড। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে একবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই এসব বরফস্তরে দ্রুত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ২০০২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বরফ গলে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১.২ মিলিমিটার করে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়েছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীর সব স্থলভাগের বরফ সম্পূর্ণ গলে গেলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ৭০ মিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা বিশ্বের বহু উপকূলীয় শহর ও নিচু অঞ্চলকে বড় ঝুঁকিতে ফেলবে।
এছাড়া, গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলে উত্তর আটলান্টিকে মিঠা পানির প্রবাহ বাড়ালে এএমওসি নামের গুরুত্বপূর্ণ সাগরীয় স্রোত দুর্বল হয়ে জলবায়ু ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
অ্যান্টার্কটিকার পশ্চিমাঞ্চলে বরফ ক্ষয়ের হার বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি গবেষণায় দেখা গেছে, গত ২৫ বছরে গেটজ আইস শেল্ফ থেকে প্রায় ১৯০ হাজার কোটি টন এবং পাইন আইল্যান্ড আইস শেল্ফ থেকে প্রায় ১৩০ হাজার কোটি টন বরফ কমেছে। বিপরীতে পূর্ব অ্যান্টার্কটিকার আমেরি আইস শেল্ফে প্রায় ১২০ হাজার কোটি টন বরফ বেড়েছে।
বিজ্ঞানীরা উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও উষ্ণ সমুদ্রজল এই গলনের প্রধান কারণ। পুরো অ্যান্টার্কটিকার বরফস্তর অদূর ভবিষ্যতে গলে যাওয়ার আশঙ্কা না থাকলেও, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক জলবায়ু ও সমুদ্রপৃষ্ঠের ওপর বড় প্রভাব পড়তে পারে।