সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬
ব্রেকিং
জাতীয়

নেপালে বন্যা: বিজ্ঞানীদের ভয়াবহ পূর্বাভাস ও নতুন বিপদের আশঙ্কা

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও নতুন বিপদের আশঙ্কা নিয়ে বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা।

নেপালে বন্যা: বিজ্ঞানীদের ভয়াবহ পূর্বাভাস ও নতুন বিপদের আশঙ্কা

নেপালে ভয়াবহ বন্যার ফলে মৃতের সংখ্যা ৭৫০ ছাড়িয়ে গেছে, এবং নিখোঁজ রয়েছেন আড়াই হাজারের বেশি মানুষ। তিব্বতেও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন শত শত বিদেশি নাগরিক। তবে বিজ্ঞানীদের কাছে আসল আতঙ্ক নদীর উজানে আটকে থাকা ধ্বংসাবশেষের কারণে তৈরি হওয়া নতুন কৃত্রিম হ্রদগুলো, যা যেকোনো সময় দ্বিতীয় দফার বন্যা ঘটাতে পারে।

নেপাল সরকার এবং অন্যান্য সংস্থাগুলি শুরুতে ধারণা করেছিল যে, এই বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে একটি বড় ভূমিকম্প। ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (USGS) ৪.৪ মাত্রার ভূকম্পন রেকর্ড করেছে, কিন্তু বিশদ বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, প্রকৃতপক্ষে কোনো ভূমিকম্প হয়নি। ক্যালগেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূপ্রকৃতিবিদ ড্যানিয়েল শুগার জানান, একটি বিশাল বরফখণ্ড লাংটাং লিরুং চূড়ার ৫,২০০ মিটার উচ্চতা থেকে ভেঙে পড়ে। এই ঘটনা রিখটার স্কেলে ৫.২ মাত্রার কম্পন সৃষ্টি করে।

উদ্ধারকাজ চলাকালীন নতুন উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। চীন ও নেপাল সীমান্তে পাহাড়ের ধ্বংসাবশেষ জমে নতুন কৃত্রিম হ্রদ তৈরি হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জেফ দা কস্তা সতর্ক করে জানান, ধসের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ আটকে নতুন হ্রদ তৈরি হয়েছে। প্রথম বন্যায় অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে, ফলে দ্বিতীয় বন্যা হলে পুরো অঞ্চলে বিপর্যয় ঘটতে পারে।

বিজ্ঞানীরা পাহাড়ের এই ভঙ্গুর অবস্থার পেছনে দুটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন। প্রথমত, টেকটোনিক প্লেটের সচলতা, যা হিমালয় পর্বতমালাকে প্রতিবছর উঁচু করছে। দ্বিতীয়ত, জলবায়ু পরিবর্তন, যার ফলে পাহাড়ের বরফ ও মাটির স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ বছরে নেপালের তুষারাবৃত পর্বতগুলো তাদের মোট বরফের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হারিয়েছে। ২০০০ সালের পর থেকে এই অঞ্চলের হিমবাহ দ্বিগুণ গতিতে গলছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, নেপালে ২ হাজারের বেশি হিমবাহ হ্রদ রয়েছে, যার মধ্যে ২১টি ইতিমধ্যেই চরম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত।

বিজ্ঞানীদের মতে, হিমালয়ের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে নাজুক হয়ে পড়ছে। দুই হাজারের বেশি বিস্ফোরক হিমবাহ হ্রদ, দ্রুত গলতে থাকা বরফ এবং সচল টেকটোনিক প্লেটের সমন্বয়ে পরবর্তী বড় বিপর্যয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন